২০২৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে সক্রিয় ‘এল নিনো’ ভারতীয় কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার বর্ষার মরশুমে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভারতের ৬০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এই অকাল খরা খাদ্য সুরক্ষার ওপর বড় আঘাত হানতে পারে। বৃষ্টির অভাবে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নেমে যাওয়া এবং জলাধারগুলোতে জলস্তর কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার ফলে রবি ফসলের উৎপাদনও ব্যাহত হতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষিকাজে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ইতিমধ্যেই কৃষকদের কম জলপ্রয়োজনীয় ফসল যেমন বাজরা, মুগ, অড়হর ও ভুট্টা চাষে উৎসাহ দিচ্ছেন। মাটি আর্দ্র রাখতে মালচিং পদ্ধতি বা গাছের গোড়ায় শুকনো পাতার আস্তরণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, জল সাশ্রয়ে ড্রিপ ও স্প্রিঙ্কলার সেচ ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং মাঠের পুকুরগুলো পুনরায় সচল করা অত্যন্ত জরুরি। রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সারের ব্যবহার মাটির জল ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আধুনিক সেচ প্রযুক্তি এবং কম জলনির্ভর ফসলের সঠিক নির্বাচনই পারে এই খরা পরিস্থিতিতে ভারতের কৃষিকে রক্ষা করতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।





