ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে বিদেশি সংস্থাগুলো আইপিও-র নামে ভারতের বাজার থেকে মোটা মুনাফা ঘরে তুলছে। প্রাইম ডাটাবেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর তালিকাভুক্ত হওয়া বেশিরভাগ বিদেশি সংস্থা কোনো নতুন মূলধন সংগ্রহের বদলে ‘অফার ফর সেল’ (OFS) বা পুরনো শেয়ার বিক্রির মাধ্যমেই কোটি কোটি ডলার তুলে নিয়েছে। হুন্দাই মোটর ও এলজি ইলেকট্রনিক্সের মতো সংস্থাগুলো আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ ভারতের ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে সরাসরি তাদের সদর দপ্তরে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় বাজারে উচ্চ মূল্যায়ন বা ভ্যালুয়েশন বিদেশি কোম্পানিগুলোকে প্রলুব্ধ করছে। যেমন, নেসলে ইন্ডিয়ার পি/ই রেশিও যেখানে ৭৭, সেখানে তাদের সুইস মূল কোম্পানির তা মাত্র ২২। ফলে, ভারতীয় বাজারে শেয়ার বিক্রি করে তারা তাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি মুনাফা পাচ্ছে। এই প্রবণতার কারণে দেশের মূলধন গঠনের সুযোগ কমছে এবং ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপির ওপর চাপ বাড়ছে। ২০২৪ সাল থেকে রুপির মান ১৩ শতাংশ কমেছে, যার অন্যতম কারণ এই মূলধন বহির্গমন। বর্তমানে ২৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আইপিও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নীতিনির্ধারকরা চিন্তিত যে, আইপিও যদি কর্পোরেট সম্প্রসারণের হাতিয়ার না হয়ে শুধুমাত্র বিদেশি মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করতে পারে।





