পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় ভূমিকম্প! ২৮ বছরের পুরনো তৃণমূল কংগ্রেস আজ কার্যত অস্তিত্ব সংকটের মুখে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই দলে দানা বেঁধেছিল বিদ্রোহ। কিন্তু মাত্র ১৩ দিনের ঘটনাপ্রবাহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্য আজ ভাঙনের মুখে। দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে বিধায়কদের একাংশের ক্ষোভ অবশেষে খোলা বিদ্রোহের রূপ নিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানিপুরের দুর্গ হারানো এবং দলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০-তে নেমে আসায় তৃণমূলের ভিত আলগা হয়ে গিয়েছিল। গত ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিবাদের সূত্রপাত হয় দলের অন্দরের কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধিতা থেকে। এরপর ২২ মে দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারীর সাথে বিদ্রোহী নেতাদের বৈঠক সেই সন্দেহকে আরও গাঢ় করে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, তৃণমূলের নিজস্ব বিধায়ক দলই কার্যত ভেঙে যায়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মোড় আসে যখন ৫৮ জন বিধায়ক বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। স্পিকার সেই দাবি স্বীকার করে নেওয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীই এখন প্রকৃত ‘তৃণমূল’ হিসেবে উঠে এসেছে। এই গোষ্ঠীর নাম দেওয়া হয়েছে “অপারেশন ক্রাউন প্রিন্স”, যার মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূলের পারিবারিক রাজনীতির অবসান ঘটানো। যদিও মমতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কেউ খাটো করে দেখছেন না, তবে এই বিদ্রোহ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কঠিনতম পরীক্ষা। দল কি এই বড় বিভাজন সামলাতে পারবে, নাকি এই ভাঙনই তৃণমূলের রাজনৈতিক ইতি টেনে দেবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





