পুরুলিয়া জেলার অন্যতম জনপ্রিয় লোক উৎসব ‘ভাদু’ আসন্ন। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কাশীপুরের দোকানগুলিতে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা, কারণ এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ‘খাজা’। এই খাজার পেছনে রয়েছে এক মর্মস্পর্শী ইতিহাস।
জানা যায়, ভাদ্র মাসে কাশীপুরের রাজা নীলমণি সিং দেওয়ের কন্যা ভদ্রাবতী ওরফে ভাদু জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার অকাল মৃত্যুর পর রাজবংশে তার স্মৃতিতে ভাদু উৎসবের সূচনা হয়। ভাদুর প্রিয় মিষ্টান্ন ছিল এই খাজা, আর তাই আজও এই উৎসবের মুখ্য প্রসাদ হিসেবে খাজার গুরুত্ব অপরিসীম।
খাজা তৈরির প্রক্রিয়া ও জনপ্রিয়তা
কাশীপুরের দিলীপ সুইট’স-এর মতো দোকানগুলোতে এখন খাজা তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। দোকান ব্যবসায়ী তাপস দাস মোদক জানান, বছরের শুধুমাত্র এই সময়েই এই খাজা তৈরি করা হয়, তাই এর চাহিদা থাকে তুঙ্গে। মাত্র ১০ টাকা দামের এই খাজা আতপ চালের গুঁড়ো, ময়দা, চিনি এবং বিশুদ্ধ গাওয়া ঘি দিয়ে তৈরি হয়। এর স্বাদ ও ইতিহাস এটিকে মানুষের কাছে আরও প্রিয় করে তুলেছে।
ভাদু উৎসব কেবল পুরুলিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন অংশেও এটি বিশেষভাবে পালিত হয়। এই উৎসব স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।





