বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ রক্ষায় একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নলবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির সূচনা করেন। রাজ্যের অরণ্য সম্পদ বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
১ কোটি ১০ লক্ষ চারা ও রক্ষণাবেক্ষণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, তা যাতে যথাযথভাবে বেড়ে ওঠে, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। শুধু চারা রোপণ নয়, সেগুলো যাতে মহীরুহে পরিণত হয়, সেই দায়িত্বও সরকার বহন করবে।”
মন্দির চত্বরে স্বচ্ছতা অভিযান রাজ্যের ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর থেকে শুরু করে কপিল মুনির আশ্রমের মতো ‘আস্থার স্থানগুলোর’ বাইরের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এর জন্য চালু করা হচ্ছে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’। কোনো নাগরিক নির্দিষ্ট এলাকার নোংরা বা আবর্জনার ছবি তুলে এই অ্যাপে পাঠালে, দ্রুত তা পরিষ্কার করা হবে।
পরিকাঠামো নির্মাণে নতুন নিয়ম কলকাতার ক্রমবর্ধমান ‘কংক্রিটের জঙ্গল’ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে যেকোনো হাউজিং প্রজেক্ট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, সরকারি পরিকাঠামো এবং সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনায় এক-তৃতীয়াংশ জায়গা গাছ লাগানোর জন্য বরাদ্দ রাখা বাধ্যতামূলক। বারাসত থেকে সোনারপুর পর্যন্ত যে কংক্রিটের প্রসারণ ঘটেছে, তা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব নীতিই সরকারের অগ্রাধিকার।
শিক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতা ছোটবেলা থেকেই যাতে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা পড়ুয়াদের মধ্যে গড়ে ওঠে, তার ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন:
স্কুলের পাঠ্যক্রমে পরিবেশবিদ্যা ও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব বাড়ানো হবে।
প্রতিটি স্কুলে তৈরি করা হবে ‘ইকো ক্লাব’।
যেসব স্কুল সক্রিয়ভাবে পরিবেশ সচেতনতার কাজ করবে, তাদের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
হাসপাতাল ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অরণ্য রক্ষা করা যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেই বার্তাই আজ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবেশ দিবসের এই কর্মসূচি আগামী দিনে বাংলাকে আরও সবুজ ও দূষণমুক্ত করে তুলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও পরিবেশবিদ মহল।





