বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনের আগে উত্তপ্ত রাজধানী। মহিলা সংরক্ষণ ইস্যুতে মোদি সরকারকে সমর্থন দিলেও, লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর (Delimitation) প্রস্তাব নিয়ে একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করল ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। বুধবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে আয়োজিত মেগা বৈঠকে তৃণমূল, ডিএমকে, সপা-সহ সব বিরোধী দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— কেন্দ্রের এই ‘ছলচাতুরি’ তারা মেনে নেবে না।
কেন এই সংঘাত? বিরোধীদের দাবি, মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে কেন্দ্র আসলে আসন পুনর্বিন্যাস করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বললেও বিলে তার সঠিক উল্লেখ নেই। এতে দক্ষিণ ভারত এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সংসদীয় গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর কড়া হুঁশিয়ারি:
বৈঠক শেষে এক্স (X) পোস্টে আক্রমণ শানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি সাফ বলেন, “২০২৩ সালেই বিলটি পাস হয়েছে এবং এটি সংবিধানের অংশ। এখন যা প্রস্তাব করা হচ্ছে তার সাথে মহিলা সংরক্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আসলে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা।” তিনি আরও যোগ করেন যে ওবিসি, দলিত ও আদিবাসীদের অধিকার ‘চুরি’ হতে দেবে না কংগ্রেস।
বিরোধী জোটের ৩টি প্রধান দাবি:
২০২৯-এই বাস্তবায়ন: জয়রাম রমেশের দাবি, বর্তমান ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতেই ২০২৯ সাল থেকে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করতে হবে।
দক্ষিণের বঞ্চনা রোখা: আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর ক্ষমতা হ্রাসের চেষ্টার বিরুদ্ধে লড়বে জোট।
জাতিগত জনগণনা: ওবিসি ও আদিবাসীদের সংরক্ষণের সঠিক পরিসংখ্যানের জন্য জাতিগত জনগণনার দাবি জানানো হয়েছে।
বৈঠকে কারা ছিলেন?
খাড়গের বাসভবনে আয়োজিত এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, শিবসেনা (ইউবিটি), এনসিপি এবং আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতারা। প্রত্যেকেই একসুরে জানিয়েছেন, লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিলের এই ‘বিভ্রান্তিকর’ অংশের বিরুদ্ধে তারা জোরালো প্রতিবাদ জানাবেন।
এডিটরস ভিউ: মহিলা সংরক্ষণের মতো সংবেদনশীল বিলকে ঘিরে কেন্দ্র-বিরোধী সংঘাত এখন এক নতুন মোড় নিল। একদিকে বিজেপি যখন একে ‘নারী শক্তি’র জয় বলছে, তখন বিরোধীরা একে ‘ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য’ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছে। কাল থেকে সংসদের ফ্লোরে এই স্নায়ুর লড়াই কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।





