আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল। সকাল ১১টা বাজতেই সংসদের বর্ধিত বাজেট অধিবেশনের বিশেষ পর্বে এক বড়সড় রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। তিন দিনব্যাপী এই বিশেষ অধিবেশনের শুরুতেই সীমানা নির্ধারণ (Delimitation) এবং বহু প্রতীক্ষিত ‘নারী শক্তি’ সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
২০২৩ সালের নারী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করার কথা। সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে আজ লোকসভায় একযোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করতে চলেছে সরকার। যার মধ্যে রয়েছে:
একটি সংবিধান সংশোধনী বিল।
সীমানা নির্ধারণ আইন সংক্রান্ত একটি নতুন বিল।
দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পুদুচেরিতে এই আইন কার্যকর করার জন্য একটি সহায়ক বিল।
সবচেয়ে বড় চমক হলো লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে সরকার লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০টি করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে ৮১৫টি আসন রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি আসন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য বরাদ্দ করার প্রস্তাব রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার সাংসদদের সাথে ইতিমধ্য়েই ‘সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬’-এর খসড়া শেয়ার করেছে। যেখানে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, কোটা ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য ২০২৭ সালের আদমশুমারির অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করেই সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হোক। যাতে ২০২৯-এর নির্বাচনের আগেই মহিলাদের সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করা যায়।
অধিবেশনের গুরুত্ব বুঝে বিজেপি, কংগ্রেস, জেডিইউ এবং লোক জনশক্তি পার্টির মতো দলগুলি তাদের সাংসদদের জন্য ‘থ্রি-লাইন হুইপ’ জারি করেছে। অর্থাৎ, প্রতিটি সাংসদকে অধিবেশনে উপস্থিত থেকে দলের নির্দেশ মেনে ভোট দিতে হবে। সংঘাত না কি সমঝোতা—আজ দিল্লির সংসদ ভবনে কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।





