২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে এবার সবথেকে বড় আবেগ ‘অভয়া’। আরজি কর হাসপাতালের সেই নৃশংস ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও দানা বাঁধেনি কাঙ্ক্ষিত বিচার—এই অভিযোগেই এবার ভোট ময়দানে সরাসরি শামিল হয়েছেন নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। শুক্রবার পানিহাটির নির্বাচনী জনসভায় তাঁর সমর্থনে দাঁড়িয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যের শাসকদলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
মোদির সেই রহস্যময় ‘ফাইল’ হুঙ্কার: জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাম না করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাংলার মেয়েদের ওপর যারা অন্যায় করেছে, যারা আরজি করের প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছে, তাদের সবার ফাইল তৈরি আছে। সময়মতো সেই ফাইল খোলা হবে এবং কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।” মোদির এই ‘ফাইল’ খোলার মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে দুর্নীতির পাশাপাশি আরজি কর কাণ্ডে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি।
“আমি বিচার পাবই”: রত্না দেবনাথ পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ এদিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি রাজনীতি করতে আসিনি, এসেছি আমার মেয়ের হয়ে বিচার চাইতে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে কথা দিয়েছেন, দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না। এই লড়াই শুধু আমার একার নয়, বাংলার প্রতিটি মা-বোনের। আমি বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার আমি পাবই।”
কেন পানিহাটি এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু? আরজি কর কাণ্ডের পর নির্যাতিতার মা-কে প্রার্থী করে বিজেপি এক মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে রত্না দেবনাথের লড়াই এখন আর কেবল ভোটপ্রাপ্তির লড়াই নেই, তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘বিচার চাওয়ার আন্দোলন’। এদিন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হলো।
শাসকদলের প্রতিক্রিয়া: তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই ঘটনাকে ‘লাশের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, আদালত ও সিবিআই এই মামলার তদন্ত করছে, বিজেপি কেবল নির্বাচনী ফায়দা লুটতে নির্যাতিতার পরিবারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
উপসংহার: ভোটের বাক্সে আরজি করের এই ক্ষোভ কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার। তবে মোদির ‘ফাইল’ খোলার হুঁশিয়ারি আর রত্না দেবনাথের চোখের জল—এই দুই মিলে পানিহাটির লড়াইকে যে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





