যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের পরিকাঠামোয় বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে বর্তমান বিজেপি সরকার। আর সেই পরিবর্তনের প্রথম কোপ পড়তে চলেছে স্টেডিয়ামের ভিভিআইপি গেটের পাশে থাকা একটি বিতর্কিত মূর্তির ওপর। তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি হওয়া এবং খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিজাইন করা এই মূর্তিটি এবার পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগানের হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচ দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো এবং বিগত সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। যুবভারতীর বাইরে থাকা কোমর পর্যন্ত কাটা পায়ের ওপর বিশ্ববাংলার লোগো বসানো মূর্তিটি প্রসঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “এমন একটা বিদঘুটে মূর্তি, যার কোনো অর্থ নেই, কোনো নান্দনিকতা নেই, সেটা রাখার কোনো মানে হয় না। আমাদের মনে হয় এই মূর্তি স্থাপনের পর থেকেই বিগত সরকারের খারাপ দিন শুরু হয়েছিল।” তিনি স্পষ্ট জানান, এই মূর্তিটি যুবভারতী থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।
আধুনিক হচ্ছে যুবভারতী, নজর খাবারেও
ডার্বি ম্যাচের উন্মাদনা উপভোগ করার পাশাপাশি স্টেডিয়ামের আধুনিকীকরণের একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী দিনে যুবভারতীতে দর্শকদের জন্য বিশ্বমানের ফুড কোর্ট তৈরি করা হবে। সেখানে খাবারের মান বজায় রাখতে নিযুক্ত থাকবেন বিশেষ ফুড টেস্টিং অফিসার। দর্শকদের স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। কাজের ব্যস্ততা না থাকলে আগামী দিনে ফুটবল এবং ক্রিকেটের সব বড় ম্যাচে তিনি মাঠে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।
ফাঁস হবে ‘মেসি ফাইলস’, ফিরবে দর্শকদের টাকা
এদিন নিশীথ প্রামাণিকের বক্তব্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় ছিল বহুচর্চিত ‘মেসি কাণ্ড’। যুবভারতীতে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে আনার নামে যে আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং দর্শকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ক্রীড়ামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, “যাঁরা এই ক্রীড়াঙ্গনে এসে চোখের জল ফেলেছেন, কষ্টের টাকা হারিয়েছেন এবং অসম্মানিত হয়েছেন, তাঁদের সম্মান আমরা ফিরিয়ে দেব।” তিনি জানান, ‘মেসি ফাইল’ নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। প্রতারিত দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য এজেন্সিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে ক্রীড়ামন্ত্রকও এই প্রক্রিয়ায় সবরকম সহযোগিতা করবে।
রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং যুবভারতীকে নতুন রূপে সাজিয়ে তুলতে বর্তমান সরকার যে কোনো আপস করতে রাজি নয়, রবিবার ক্রীড়ামন্ত্রীর এই চাঁছাছোলা বক্তব্যেই তা পরিষ্কার হয়ে গেছে।





