তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয় ও দলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল কলকাতা পুরসভায়। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন। অবশেষে তাঁর সম্মতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র পদ ছাড়লেন তিনি।
কেন এই ইস্তফা? গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই তৃণমূল শিবিরে ভাঙন অব্যাহত। একের পর এক কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন, আবার কাউকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন ‘অস্থির ও প্রতিকূল’ পরিস্থিতিতে কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন ফিরহাদ। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে কাজ করা যাচ্ছে না। ফিরহাদ হাকিমের সম্মান রক্ষার স্বার্থেই দলনেত্রী তাঁকে ইস্তফা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।”
পুরসভার ভবিষ্যৎ কী? মেয়রের ইস্তফার অর্থ হলো বর্তমান পুরবোর্ডটির কার্যকারিতা কার্যত শেষ হয়ে যাওয়া। ডিসেম্বরে পুরভোট হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান ডামাডোলে দ্রুত নির্বাচন বা নতুন বোর্ড গঠন করা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বিশেষ করে সামনেই বর্ষাকাল, যখন জলজমা ও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে কলকাতা পুরসভার ওপর বড় দায়িত্ব থাকে। এই সংকটময় মুহূর্তে শহরের প্রশাসনিক হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।
রাজনীতির নতুন সমীকরণ: বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেস’ প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনিতেই কোণঠাসা। তার ওপর কলকাতা পুরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রে মেয়রের পদত্যাগ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পতনের চিত্রকেই আরও স্পষ্ট করে তুলল।





