করিমপুর থানায় কৃষ্ণনগরের বিদায়ী তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে FIR! হঠাৎ কী করলেন নেত্রী?

জাতীয় স্তরে ক্যাশ ফর কোয়েরি (Cash for Query) বিতর্ক এবং সাংসদ পদ খারিজের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই, এবার নিজের নির্বাচনী এলাকার ঘরের মাটিতেই বড়সড় আইনি জটে জড়ালেন কৃষ্ণনগরের বিদায়ী তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নদীয়া জেলার করিমপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকসভা ভোটের পর নদীয়ার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে।

অভিযোগটা আসলে কী?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, করিমপুর থানা এলাকায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি বা প্রশাসনিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে মূলত উস্কানিমূলক মন্তব্য করা, শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা এবং সরকারি কাজে বাধা বা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের হেনস্থা করার একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি:

“মহুয়া মৈত্র করিমপুরে এসে প্রকাশ্য জনসভায় এবং সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা এলাকার সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে বিরোধী কর্মীদের এলাকা ছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

করিমপুরই কেন লক্ষ্য?

উল্লেখ্য, মহুয়া মৈত্র রাজনীতিতে লাইমলাইটে এসেছিলেন এই করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হাত ধরেই। ২০১৬ সালে তিনি এই করিমপুর থেকেই বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরে তিনি কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হলেও করিমপুরের ওপর তাঁর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সবসময়ই মজবুত ছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর করিমপুর সহ গোটা নদীয়া জেলায় বিরোধীদের (মূলত বিজেপির) শক্তি বৃদ্ধি হওয়ায়, এখন মহুয়ার প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।

রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

মহুয়ার বিরুদ্ধে করিমপুর থানায় এফআইআর দায়ের হওয়া মাত্রই আসরে নেমেছে গেরুয়া শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “মহুয়া মৈত্র ভাবেন তিনি আইনের উর্ধ্বে। সংসদে কুৎসিত আচরণের পর এবার নিজের এলাকাতেও তিনি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন। পুলিশ যেন রঙ না দেখে ওঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেয়।”

অন্যদিকে, এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, মহুয়া মৈত্রকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতেই পুরনো কায়দায় মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রান করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। তবে আইনি পথেই এই লড়াই লড়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

করিমপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ জমা পড়েছে এবং তার ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy