ওটি-তে নিয়েও অস্ত্রোপচার হল না! উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে সরঞ্জামের অভাবে চরম হেনস্থার শিকার রোগী

চিকিৎসা পরিষেবার পরিকাঠামো নিয়ে ফের কাঠগড়ায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। শুক্রবার এক রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে যাওয়ার পরও অস্ত্রোপচার না করেই ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা ‘প্লেট’ না থাকার অজুহাতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি রোগীর পরিবারের। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গ জুড়ে।

জানা গিয়েছে, গত ২০ মে শিলিগুড়ির শালুগাড়ার ডিমা বস্তির বাসিন্দা সোনালী বর্মন গুরুতর জখম অবস্থায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন এবং পা ও কোমরে প্লেট বসানোর কথা বলেন। রোগীর বাবা বিমল বর্মনের অভিযোগ, “হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছিল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এখান থেকেই মিলবে। পরে ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আমাদের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই ব্যক্তি জানান, তিনিই বাইরে থেকে সরঞ্জাম পৌঁছে দেবেন, যার জন্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে।”

পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের দিন সরঞ্জাম পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষপর্যন্ত তা আসেনি। ফলে ওটিতে নিয়ে যাওয়ার পরও অস্ত্রোপচার না করেই রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসার আশায় এসে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অসহায় বাবা।

ঘটনার খবর জানাজানি হতেই তৎপর হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক অতিরিক্ত সুপার ও ডেপুটি সুপারকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। অতিরিক্ত সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রোগীর ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড না থাকায় পরিবারকেই বাইরে থেকে সরঞ্জাম কেনার কথা বলা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো চিকিৎসক বা নার্সের পক্ষে রোগীর পরিবারকে কোনো বহিরাগত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ। এই ধরনের কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং ওই রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য নতুন তারিখও নির্ধারণ করেছেন। তবে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ধারদেনা করে বাইরে থেকে এই ব্যয়বহুল সরঞ্জাম কিনে চিকিৎসা করানো কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি হাসপাতালের অন্দরে কি কোনো দালালচক্র সক্রিয়? প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে হাসপাতালের কর্মীরা বহিরাগতদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে রোগীদের অসহায়তার সুযোগ নিচ্ছে? এই ঘটনা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের স্বচ্ছতা ও পরিষেবার মান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy