এল নিনোর দাপটে ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বৃষ্টির আশঙ্কা, কী বললেন মৌসম ভবন?

বর্ষার মরশুম শুরুর ঠিক আগেই দেশবাসীর জন্য এল এক দুঃসংবাদ। মৌসম ভবনের (IMD) ডিরেক্টর ড. মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, চলতি বছরে অনাহূত অতিথির মতো হাজির হতে চলেছে ‘এল নিনো’। এর প্রভাবে গত তিন বছরের মধ্যে এ বছর দেশে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এল নিনো কী এবং কেন এই উদ্বেগ? প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় ‘এল নিনো’। ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপ-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. মহাপাত্র জানিয়েছেন, জুন মাস থেকেই এর প্রাথমিক প্রভাব পড়তে শুরু করবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে অগাস্টের মধ্যে এটি মাঝারি শক্তি অর্জন করবে এবং সেপ্টেম্বর নাগাদ পূর্ণ শক্তি লাভ করবে। ভারতের মতো কৃষিপ্রধান দেশে এল নিনোর সঙ্গে দুর্বল বর্ষা, ঘন ঘন তাপপ্রবাহ এবং জলসম্পদের সংকটের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।

কী বলছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো? শুধু মৌসম ভবন নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও একই আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে:

  • অস্ট্রেলিয়া ব্যুরো অফ মেটিওরোলজি: জুন মাসের মধ্যেই এল নিনো পরিস্থিতি তৈরির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

  • চিনের ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টার: প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ইতিমধ্যেই এল নিনোর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

  • নাসা (NASA): স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের নিচে বিশাল উষ্ণ জলের ভাণ্ডার জমা হয়েছে, যা এল নিনো তৈরির সবচেয়ে বড় সঙ্কেত।

ভারতের ওপর প্রভাব: সাধারণত এল নিনো সক্রিয় থাকলে বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দে বড় ধরনের বিচ্যুতি ঘটে। এটি শুধু বৃষ্টিপাতের পরিমাণই কমিয়ে দেয় না, বরং দেশের সামগ্রিক কৃষিব্যবস্থা এবং অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। অতীতে এল নিনোর সময় দেশে তাপপ্রবাহের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং খরা পরিস্থিতির নজির রয়েছে।

এখন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র এল নিনোর আগমনের ইঙ্গিত দেওয়ায় ভারতের আসন্ন বর্ষার মরশুম নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। মৌসম ভবনের এই পূর্বাভাস কৃষিকাজ এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy