ভারতীয় আকাশসীমায় দীর্ঘ সময় ধরে দাপিয়ে বেড়ানোর পর এবার নিজেদের উড়ান সংখ্যা কমিয়ে আনার পথেই হাঁটছে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের দুই বড় নাম—এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত সাধারণ বিমানযাত্রী থেকে শুরু করে পর্যটন শিল্প। কিন্তু কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? এর পেছনে একাধিক কারণ উঠে আসছে বলে মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।
কেন উড়ান কমানোর পথে এয়ারলাইন্সগুলো?
প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ইঞ্জিনের সংকট: সূত্রের খবর, ইন্ডিগোর মতো সংস্থার বেশকিছু বিমানে ইঞ্জিনের প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সেগুলোকে গ্রাউন্ডেড বা পরিষেবার বাইরে রাখতে হচ্ছে। বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ বা ‘এমআরও’ (MRO) কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় উড়ান সংখ্যা কমানো ছাড়া উপায় থাকছে না।
বিমানের অভাব: এয়ার ইন্ডিয়া তার পুরনো বিমানগুলো বদলে নতুন বিমান বহর বাড়ানোর চেষ্টা করছে। নতুন বিমানের ডেলিভারিতে বিলম্ব হওয়ার কারণেও সামগ্রিক উড়ান সংখ্যা সাময়িকভাবে কমিয়ে আনা হচ্ছে।
পাইলট ও কর্মী সংকট: ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় দক্ষ পাইলট এবং ক্রু মেম্বারের অভাব বিমান সংস্থাগুলোর সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জনশক্তির ঘাটতি মেটাতে কিছু রুটে উড়ান সংখ্যা কমিয়ে ফেলার কৌশল নিয়েছে সংস্থাগুলো।
অতিরিক্ত খরচ ও মুনাফার সমীকরণ: জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং পরিচালনাগত খরচ (Operational Cost) বেড়ে যাওয়ায়, যে সব রুটে যাত্রীসংখ্যা কম, সেই সব রুটের উড়ান আপাতত বন্ধ রাখা বা সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিমান সংস্থাগুলি, যাতে ব্যবসার ভারসাম্য বজায় থাকে।
যাত্রীদের ওপর প্রভাব: বিমান সংস্থাগুলোর এই সিদ্ধান্তের ফলে টিকিটের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি, উৎসবের মরসুমে বা ছুটির সময় ফ্লাইটের অপ্রতুলতায় সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ। বিমান বহর বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা মিটে গেলে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে ভারতীয় বিমান পরিষেবা। তবে এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ডিজিসিএ (DGCA)-ও।





