“এখানে কাজ থাকলে…?”-রাজস্থানে বহুতল ভেঙে মৃত্যু বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক ও ৫ বছরের মেয়ের

ভিনরাজ্যে রোজগারের খোঁজে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হলো পূর্ব বর্ধমানের এক পরিযায়ী শ্রমিকের। রাজস্থানে একটি পুরনো বহুতল ধসে প্রভাত বাগদি (৩১) এবং তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে পিউ বাগদির মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন প্রভাতের স্ত্রী সুমিত্রা বাগদি। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর।

জানা গেছে, প্রায় দশ বছর আগে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী থেকে রাজস্থানে কাজ করতে গিয়েছিলেন প্রভাত। জয়পুরের সুভাষ চকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে একটি পুরোনো আবাসনে থাকতেন তিনি। সেখানে গয়না তৈরির কাজ করতেন। শুক্রবার গভীর রাতে, সম্ভবত রাত ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে, তাদের আবাসনের একটি অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে ১৯ জন ভাড়াটের মধ্যে ৭ জন গুরুতর আহত হন। এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারান প্রভাত ও তাঁর ছোট্ট মেয়ে পিউ।

শনিবার সকালে প্রভাতের মৃত্যুর খবর বর্ধমানে তাঁর বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রভাতের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “এখানে কাজ থাকলে ছেলেকে বাইরে যেতে হত না। রোজগার নেই বলেই বাইরে যেতে হয়েছে।”

ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় প্রভাতের বাড়িতে গিয়ে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার একশো দিনের কাজ বন্ধ রাখায় অনেককেই বাইরে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।” অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে, “রাজ্য সরকার কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি বলেই রাজ্যের মানুষকে বাইরে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।”

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে, এই ঘটনা আবারও পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে এল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy