“এ বছর গরুর কুরবানি নয়!”-বকরি ইদের আগে মুসলিমদের উদ্দেশে ফুরফুরা শরিফের ত্বহা সিদ্দিকির বড় বার্তা!

সামনেই মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব বকরি ইদ বা কুরবানির ইদ। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবারের ইদে কুরবানি দেওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের কড়া গাইডলাইন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই আবহেই এবার কুরবানি নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ফুরফুরা শরিফ। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি মুসলিমদের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, “এই বছর গরুর কুরবানি নয়, আমি সকলের কাছে আবেদন করছি এ বার কেউ গরু কিনবেন না।”

কেন এই আবেদন ফুরফুরা শরিফের?

রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকাশ্যে পশু জবাইয়ের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সঙ্গে গরু কোরবানি সংক্রান্ত বিষয়েও কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, “নতুন নির্দেশিকা মেনে গরু কুরবানি দেওয়া একটি অত্যন্ত কঠিন প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। তাই কোনও রকম আইনি বিতর্ক বা সামাজিক সমস্যায় না জড়িয়ে এবং কুরবানির দিন যাতে কোথাও কোনও বাধা বা অশান্তি তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই আমি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এ বছর গরু কুরবানি থেকে বিরত থাকার আবেদন জানাচ্ছি।”

গরুর পরিবর্তে ধর্মীয় প্রথা মেনে ছাগল বা অন্যান্য পশু কুরবানি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি ভারত থেকে বিদেশে গোমাংস রফতানি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, “ভারত গোমাংস রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বহু কারখানায় গরু কাটা হয় এবং তা বিদেশে রফতানি করা হয়। কিন্তু সেখানে কোনও কঠোর আইন প্রযোজ্য হয় না।”

কী রয়েছে সরকারের নতুন গাইডলাইনে?

রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে:

  • কোনও অসুস্থ বা কমবয়সী পশু জবাই করা যাবে না। ১৪ বছরের ঊর্ধ্বের প্রাণীদেরই কেবল জবাই করা যাবে।

  • কোনও অবস্থাতেই প্রকাশ্যে পশু জবাই করা চলবে না, তা করতে হবে সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট স্থানে বা কসাইখানায়।

নিয়ম শিথিলের আর্জি নাখোদা মসজিদের

সরকারি এই কড়া নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই নিয়মের কিছুটা শিথিলতা দাবি করেছে কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদ। নাখোদা মসজিদের পক্ষে নাসিক ইব্রাহিম জানান, “এটি আসলে ১৯৫০ সালের একটি আইন। যেখানে বলা আছে জবাইয়ের আগে সার্টিফিকেট জোগাড় করতে হবে এবং তা কসাইখানায় করতে হবে। কিন্তু বিগত সরকারগুলি জায়গায় জায়গায় পর্যাপ্ত কসাইখানা তৈরি করেনি। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাব, আইনে সামান্য ছাড় দিয়ে ওই একটি পরবের দিন ১৪ বছরের ঊর্ধ্বের শর্তটি শিথিল করা হোক। কারণ কম বয়স ছাড়া সাধারণত গরু বিক্রিই হয় না।”

বকরি ইদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে একদিকে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং অন্যদিকে ধর্মীয় গুরুদের এই শান্তি ও সতর্কতার বার্তা— দুইয়ে মিলে এবারের ইদের প্রস্তুতিতে এক ভিন্ন ছবি দেখছে রাজ্যবাসী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy