“উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব!” বাংলা নববর্ষে অমিত শাহের চরম হুঁশিয়ারি, বিমানবন্দরে মিঠুন-হিমন্ত সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা!

পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন জামা আর মিষ্টির আদান-প্রদান। কিন্তু ২০২৬-এর এই নববর্ষ বাংলার রাজনীতিতে বয়ে আনল এক ভিন্ন মাত্রা। একদিকে ‘বাঙালি অস্মিতা’ বা নিজের সংস্কৃতি রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে দিনটিকে ব্যবহার করল তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতা— বিরোধীদের আক্রমণাত্মক মেজাজে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বঙ্গ রাজনীতির আঙিনা।

তৃণমূলের অস্মিতা কার্ড: এবারের নববর্ষকে স্রেফ একটি উৎসব হিসেবে নয়, বরং ‘প্রতিরোধের প্রতীক’ হিসেবে দেখছে শাসক দল। ভিন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর হয়রানি এবং বাংলা ভাষাকে অবমাননার অভিযোগ তুলে দিনভর প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূলের নেতা-প্রার্থীরা। পাড়ায় পাড়ায় প্রভাতফেরি থেকে শুরু করে সন্ধ্যার রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় মানুষের সঙ্গে কোনো দূরত্ব না রেখে মিশে গেলেন জোড়া-ফুলের শীর্ষ নেতারা। তাঁদের দাবি— “বাংলার সংস্কৃতিকে কখনও ম্লান হতে দেওয়া হবে না।”


অমিত শাহের রণহুঙ্কার: “গুন্ডাদের উল্টো করে ঝোলাব”

অন্যদিকে, ভোটের প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সুর চড়ালেন কয়েক গুণ বেশি। এদিন তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, “৫ মে-র পর বিজেপি সরকার গড়লে বাংলার গুন্ডাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব।” মহিলাদের নিরাপত্তা এবং দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও যোগ করেন, এই রাজ্যে আর কোনোভাবেই ‘তোষণ’ চলবে না।


বিমানবন্দরে মিঠুন-হিমন্ত সাক্ষাৎ: নতুন কোনো জল্পনা?

পয়লা বৈশাখের সন্ধ্যায় সবচেয়ে বড় চমক ছিল কলকাতা বিমানবন্দর। সেখানে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে যায় মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর। যদিও এটিকে ‘সৌজন্য বিনিময়’ বলা হচ্ছে, কিন্তু ভোটের আগে এই দুই হেভিওয়েটের সাক্ষাৎ কি নিছকই কাকতালীয়? না কি নেপথ্যে কোনো বড় পরিকল্পনা রয়েছে? তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।

এক নজরে আজকের রাজনীতির চিত্র:

  • তৃণমূল: রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের বার্তা।

  • বিজেপি: দুর্নীতি ও গুন্ডারাজ দমনে ‘উল্টো করে ঝোলানোর’ দাওয়াই।

  • মিঠুন চক্রবর্তী: অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আকস্মিক সাক্ষাতে নতুন সমীকরণের আভাস।

এডিটরস ভিউ: নববর্ষের দিনই বাংলার রাজনীতি পরিষ্কার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। তৃণমূল যেখানে ‘বাঙালি আবেগ’ ও ‘সংস্কৃতি’কে ঢাল করছে, সেখানে বিজেপি ঝাঁপিয়েছে ‘পরিবর্তন’ ও ‘কড়া দাওয়াই’-এর বার্তা নিয়ে। বিমানবন্দরের মিঠুন-হিমন্ত সাক্ষাৎ এই লড়াইয়ে আরও একটু মশলা যোগ করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy