কলকাতা পুলিশের পিআরসি (PCR) ভ্যানে কর্তব্যরত অবস্থায় তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বাহিনীর দুই সদস্য। রাজ্যের রাজধানী এবং খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্দরে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি লালবাজারের পক্ষ থেকে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শ্যামপুর এলাকায়। অভিযোগ, বাঁকুড়ার বারিকুল এলাকার এক ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে কলকাতা পুলিশের ওই দুই কর্মী তোলাবাজির ফাঁদ পাতে। ওই ব্যবসায়ী যখন শ্যামপুর এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন পিআরসি ভ্যানে থাকা ওই দুই পুলিশকর্মী তাকে দাঁড় করান এবং অহেতুক ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। পুলিশের পোশাকের দাপট দেখিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। ঘটনায় আতঙ্কিত ওই ব্যবসায়ী তৎক্ষণাৎ ঘটনার বিশদ বিবরণ এবং পুলিশের অভব্য আচরণের অভিযোগ দায়ের করেন।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। কোনো ধরনের অনিয়ম যে বরদাস্ত করা হবে না, তার বার্তা দিয়ে তড়িঘড়ি অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। লালবাজার সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুই কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা পর্যন্ত হতে পারে।
এই ঘটনায় শহরজুড়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যে পুলিশ কর্মীরা সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য পিআরসি ভ্যানে টহল দেন, তাদের বিরুদ্ধেই যদি তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায়? ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের এই ধরনের আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “পুলিশের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনো পুলিশকর্মী যদি নিজের উর্দির অপব্যবহার করে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার কোনো রেহাই নেই। এই মামলায় আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত করছি।” ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





