উত্তরপ্রদেশে প্রকৃতির তাণ্ডব! কালবৈশাখীর মরণঝাঁপে মৃত ৪৪, শ্মশানের নিস্তব্ধতা যোগীরাজ্যে

বসন্তের শেষে কালবৈশাখীর এমন রুদ্ররূপ আগে দেখেনি উত্তরপ্রদেশ। আচমকা ধেয়ে আসা প্রবল ঝড়, শিলাবৃষ্টি আর বজ্রপাতের তাণ্ডবে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলা। প্রকৃতির এই ভয়াবহ রোষে এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। গাছ উপড়ে, দেওয়াল ধসে এবং একের পর এক বজ্রপাতে একের পর এক সাজানো সংসার নিমেষে শ্মশান হয়ে গিয়েছে। ঘরবাড়ি হারানোর পাশাপাশি রেল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় চরম সংকটে লক্ষ লক্ষ মানুষ।

মৃত্যুপুরী প্রয়াগরাজ ও ফতেহপুর:
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে প্রয়াগরাজে। সেখানে ঝড়ের দাপটে এবং দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। অন্যদিকে, ফতেহপুরে ৯ জন এবং ভদোহীতে ৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মৃত্যুর এই মিছিল এখানেই থেমে থাকেনি। বদায়ুঁ ও প্রতাপগড়ে ৫ জন করে এবং হরদোইয়ে ২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। মৃতদের পরিবারে এখন শুধুই হাহাকার। ঝড়ের দাপটে রাস্তার ধারের বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল যেমন থমকে গিয়েছে, তেমনই অনেক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।

বিপর্যস্ত পরিষেবা ও ধ্বংসলীলা:
কালবৈশাখীর ধ্বংসলীলা থেকে রেহাই পায়নি উত্তরপ্রদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাও। ঝড়ের কারণে ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এবং লাইনের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন রুটে রেল পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত। একাধিক ট্রেন মাঝপথেই দাঁড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে নাকাল হচ্ছেন হাজার হাজার যাত্রী। এছাড়া বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় পানীয় জলের সংকটও দেখা দিয়েছে বিভিন্ন জেলায়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ভারী শিলাবৃষ্টিই এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মূল কারণ।

প্রশাসনের পদক্ষেপ:
উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মৃতদের পরিবারকে শোকবার্তা জানানোর পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গাছ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার এবং বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। তবে বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় সাধারণ মানুষকে আপাতত ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আকাশ এখনও মেঘাচ্ছন্ন, ফলে নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে রয়েছেন গ্রামবাসীরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy