ইন্দ্রনীল সেনের অস্বস্তি বাড়িয়ে গ্রেফতার ঘনিষ্ঠ নেতা ফিরোজ খান! নথি চুরির অভিযোগ

প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে কাটমানি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন উত্তাল, ঠিক সেই সময়েই তাঁর ঘনিষ্ঠ বলয়ের এক প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল। শুক্রবার সন্ধ্যায় হুগলির ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

কেন গ্রেফতার ফিরোজ? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভদ্রেশ্বর পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরসভা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র খোয়া গেছে বলে অভিযোগ। শুক্রবার বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয় ফিরোজ খানকে। দীর্ঘ জেরার পর তাঁকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। শনিবার তাঁকে চন্দননগর আদালতে পেশ করা হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অস্বস্তি: ফিরোজ খান চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই গ্রেফতারি ইন্দ্রনীল সেনের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, তেলিনিপাড়ার অস্থিরতা এবং সম্প্রতি ভদ্রেশ্বর পুরসভায় গোলমালের ঘটনার সঙ্গেও ফিরোজের নাম জড়িয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা: শুধু ফিরোজ খানের গ্রেফতারিই নয়, ভদ্রেশ্বর পুরসভার অন্দরমহলে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঠিক একদিন আগেই এই পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী এবং আরও আটজন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর থেকেই ২২টি ওয়ার্ডের এই পুরসভার পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের পরাজয়ের পর যেভাবে স্থানীয় স্তরে নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে এবং একের পর এক নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন, তাতে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি প্রবল চাপের মুখে পড়েছে। এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে এই নথি চুরির নেপথ্যে আর কাদের যোগসূত্র পাওয়া যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy