প্রতীক্ষার অবসান। ভারতের মূল ভূখণ্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৩ দিন দেরিতে, ৪ জুন কেরল উপকূলে বর্ষার আগমন ঘটেছে। আরব সাগরের ওপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী মেঘমালা এবং পশ্চিমী বায়ুর প্রভাবে এই বর্ষার প্রবেশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
বর্ষা এখন কোথায়? আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, মৌসুমী বায়ু ইতিমধ্যে দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমগ্র লাক্ষাদ্বীপ, কর্ণাটকের কিছু অংশ, তামিলনাড়ুর বিশাল এলাকা এবং আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের বড় অংশ। বর্তমানে মৌসুমী বায়ুর অভিমুখ দক্ষিণ ভারতের উপদ্বীপ ছাড়িয়ে মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে।
আগামী কয়েক দিনে বর্ষার গতিপথ: IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই বর্ষা ভারতের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলিতে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে গোয়া, মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা বাড়বে।
দিনক্ষণ অনুযায়ী অগ্রগতির তালিকা:
৫ থেকে ৭ জুন, ২০২৬: এই সময়ের মধ্যে সমগ্র গোয়া, মহারাষ্ট্রের একাংশ ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বর্ষা স্থায়ী রূপ নেবে।
৮ থেকে ৯ জুন, ২০২৬: তামিলনাড়ুর অবশিষ্ট অংশ, বঙ্গোপসাগরের বড় অংশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বর্ষা প্রবেশ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্ষা আগমনের নেপথ্যে: আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের ওপর তৈরি হওয়া বিশালাকার উল্লম্ব মেঘমালা বৃষ্টির মূল উৎস। এর পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩৭ থেকে ৪৬ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা পশ্চিমী বায়ু সাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে ভারতীয় উপকূলে আছড়ে পড়ছে। এই আর্দ্র বায়ু স্থলভাগে প্রবেশ করতেই মেঘ ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
দেশজুড়ে বর্ষার এই আনুষ্ঠানিক প্রবেশে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে জনজীবনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে। তবে বাংলার মানুষ এখন তাকিয়ে আছে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী আপডেটের দিকে—কবে থেকে দক্ষিণবঙ্গের আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা পড়বে?





