ইনভার্টারও হার মানল গরমের কাছে! বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উত্তাল উত্তর প্রদেশ, মধ্যরাতে রাস্তা অবরোধে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

উত্তর প্রদেশজুড়ে এখন এক চরম অগ্নিপরীক্ষার সময়। একদিকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ানো তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রীষ্মের এই চরম সময়ে বিদ্যুতের এই বেহাল দশা রাজ্যের মানুষ মেনে নিতে পারছেন না। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, লখনউ সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মানুষ প্রতিবাদ জানাতে গভীর রাতেও রাস্তায় নেমে আসছেন। বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘেরাও, রাস্তা অবরোধ এবং স্লোগান—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।

বৃহস্পতিবার রাতের চিত্রটি ছিল ভয়াবহ। লখনউয়ের গোমতিনগর, জানকিপুরম, ফৈজুল্লাগঞ্জ এবং ইন্দিরানগরের মতো জনবহুল এলাকায় মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্থানীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ঘেরাও করে তারা তীব্র বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। অনেক এলাকায় ক্ষুব্ধ জনতার তাড়া খেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

ভুক্তভোগীদের কথায়, চিনহাটের আশরাফ বিহারে বিকেল থেকেই বিদ্যুৎ ছিল না। দীর্ঘ নয় ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় বাড়িতে থাকা ইনভার্টারগুলোও বিকল হয়ে যায়। ফলে প্রবীণ, শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা অসহ্য গরমে চরম সংকটে পড়েন। বাধ্য হয়ে মানুষজন নিজেদের ঘর ছেড়ে ছাদে, রাস্তায় কিংবা পার্কের খোলা জায়গায় রাত কাটাতে বাধ্য হন। একই চিত্র দেখা গিয়েছে মোহন রোড এবং রায়বেরেলি রোডেও, যেখানে বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়।

এই জনরোষের নেপথ্যে রয়েছে গত তিন দিনের টানা বিদ্যুৎহীনতা। ফৈজুল্লাগঞ্জ সাবস্টেশনে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার সময় এক চুক্তিভিত্তিক লাইনম্যান উদয় রাজের মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কেবল সাধারণ মানুষ নয়, জনপ্রতিনিধিরাও এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সরোজিনী নগরের বিধায়ক ড. রাজেশ্বর সিং বিদ্যুৎমন্ত্রীকে ১০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।

লখনউ ছাড়াও গোন্ডা, কানপুর এবং সুলতানপুর সহ রাজ্যের সর্বত্র একই ছবি। বিদ্যুৎ বিভাগের পুরোনো পরিকাঠামো, ট্রান্সফরমারের অভাব এবং ওভারলোডিংকে এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিরোধী দলগুলোও এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বারবার উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিলেও, আপাতত গরমের দাপট আর অন্ধকারের যন্ত্রণায় কার্যত পঙ্গু উত্তর প্রদেশ। কবে মিলবে মুক্তি, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy