সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) সম্প্রতি নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করে যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে প্রবল বিতর্ক। এই নতুন নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে একটি জনস্বার্থ মামলা। শুক্রবার প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহাতগি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার উল্লেখ করেন। আবেদনকারীরা মূলত শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের একটি অংশ, যারা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
বোর্ডের ১৫ মে প্রকাশিত সার্কুলার অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের তিনটি ভাষা (R1, R2 এবং R3) পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দুটি ভাষাকে অবশ্যই ভারতীয় হতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো বিদেশি ভাষা পড়তে চায়, তবে তাকে সেই ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে বেছে নিতে হবে অথবা অতিরিক্ত চতুর্থ ভাষা হিসেবে গণ্য করতে হবে। বিদেশি ভাষা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের আগে দুটি ভারতীয় ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক, যা নিয়ে অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) এবং জাতীয় পাঠ্যক্রম রূপরেখা (NCF-SE) ২০২৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পদক্ষেপ নিয়েছে সিবিএসই। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় ভাষার জন্য যদি সুনির্দিষ্ট পাঠ্যবই না থাকে, তবে আপাতত ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবই দিয়েই পড়ুয়াদের কাজ চালাতে হবে। তবে সিবিএসই বোর্ড পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো অযাচিত মানসিক চাপ সৃষ্টি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বোর্ড স্পষ্ট করেছে যে, দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় তৃতীয় ভাষা বা R3-এর ওপর কোনো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এর মূল্যায়ন সম্পূর্ণভাবে স্কুলভিত্তিক এবং অভ্যন্তরীণ হবে।
বোর্ড সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, তৃতীয় ভাষার ফলাফল সিবিএসইর মূল শংসাপত্রে উল্লেখ করা থাকবে, তবে এই বিষয়ের কারণে কোনো পড়ুয়া দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না—এমন কোনো ঝুঁকি নেই। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের পদ্ধতি এবং নমুনা প্রশ্নপত্র খুব শীঘ্রই বোর্ড প্রকাশ করবে। তবুও সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে শিক্ষামহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এই ‘তিন ভাষা’ নীতি। পড়ুয়ারা কতটা এই বাড়তি চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। এখন দেখার পালা, সুপ্রিম কোর্ট এই বিতর্কিত নীতি নিয়ে কী পর্যবেক্ষণ দেয়।





