বিধানসভার লবিতেই তৃণমূলের অফিস! বিরোধী দলনেতার মর্যাদা ও ঘর না পেয়ে চরম ক্ষোভ বিধায়কদের

রাজ্য বিধানসভায় এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। বিরোধী দলনেতার মর্যাদা এবং বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত ঘর—এই দুই দাবিতে বিধানসভার লবিতে অবস্থানে বসলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। ৮০ জন বিধায়ক থাকলেও এদিন কর্মসূচিতে দেখা গেল মাত্র ২০ জনকে। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিধানসভার অধ্যক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও মেলেনি বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি, এমনকি বিরোধী দলের কোনো কার্যালয়ও বরাদ্দ করা হয়নি।

বিধানসভার অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার আবেদন সম্বলিত চিঠিতে ১০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর নেই। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেই লবিতে অবস্থানে বসেন বিধায়করা। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত পদ ও ঘর বরাদ্দ না করলে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। প্রবীণ তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই অচলাবস্থার জন্য সরাসরি প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমরা নিয়ম মেনেই চিঠি জমা দিয়েছি, কিন্তু উত্তর অধরা। এভাবে চললে বিধানসভার লবিতেই অফিস খুলে কাজ চালাতে হবে।”

প্রসঙ্গত, বিরোধী দলের তকমা ও ঘর পাওয়ার জটিলতা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও দড়ি টানাটানি চলছে। প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিতে কিছু ত্রুটি থাকায় তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সেই চিঠি সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, এই নতুন চিঠির কপি অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তবে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দলীয় বিধায়কদের এমন কর্মসূচিতে অর্ধেকের বেশি সদস্যের অনুপস্থিতি এবং ৭০ জনের সইয়ে ৮০ জনের নাম না থাকা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। তৃণমূলের অন্দরে কি ভাঙনের সুর? এই প্রশ্ন উঠতেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, “দল সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। অনেক বিধায়ক অসুস্থ, আবার অনেকেই এলাকায় সন্ত্রাসের মোকাবিলা ও মিথ্যে মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত। তাই সবার পক্ষে আসা সম্ভব হয়নি।”

বিরোধী দলনেতার মর্যাদা এবং ঘর বরাদ্দের এই জট আদৌ কবে কাটবে, তা এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। বিধানসভার মতো পবিত্র স্থানে বিধায়কদের অবস্থানে বসার ঘটনা রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় দাগ ফেলে গেল। প্রশাসনিক জটিলতা আর রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই আবহে এখন সব নজর স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy