উত্তর আরব সাগরে এক দীর্ঘস্থায়ী ও রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার পর ইরানি পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, এম/ভি টুস্কা নামের ওই জাহাজটি মার্কিন নৌ-অবরোধ লঙ্ঘন করে ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে যাওয়ার সময় ইউএসএস স্প্রুয়েন্স (USS Spruance) নামের গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের হাতে আটক হয়।
৬ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনা ও হামলা
সেন্টকম জানিয়েছে, জাহাজটি টানা ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পালানোর চেষ্টা করছিল। ১৭ নট গতিতে ছুটতে থাকা টুসকা জাহাজটিকে বারবার থামার নির্দেশ দেওয়া হলেও কোনো সাড়া না মেলায় মার্কিন বাহিনী শক্তিপ্রয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটি লক্ষ্যভ্রষ্ট না করে সরাসরি ইরানি জাহাজটির দিকে গোলাবর্ষণ করছে।
ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ
বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সরাসরি সংঘর্ষে যাওয়ার আগে মানবিক খাতিরে জাহাজটির নাবিকদের ইঞ্জিন রুম খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরই ইউএসএস স্প্রুয়েন্সের ৫-ইঞ্চি এমকে ৪৫ (Mk 45) কামান থেকে টুস্কার ইঞ্জিন রুমে একের পর এক গোলাবর্ষণ করা হয়। নিখুঁত নিশানায় চালানো এই হামলায় জাহাজটির প্রোপালশন বা চলন শক্তি পুরোপুরি বিকল হয়ে যায় এবং মাঝ সমুদ্রেই অচল হয়ে পড়ে ইরানি এই পণ্যবাহী জাহাজ।
নৌ-অবরোধ নিয়ে কড়া বার্তা
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা আরব সাগরীয় অঞ্চলে তাদের ঘোষিত নৌ-অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টাকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। ঘটনার পর জাহাজটির বর্তমান অবস্থা এবং এর নাবিকদের ভাগ্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।





