মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি কি অবশেষে শান্ত হতে চলেছে? দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে চরম উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ছিল, তাতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। গত কয়েক মাসে যেভাবে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছিল, তাতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০% জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়। তাই এই চুক্তি কার্যকর হওয়া মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ইরান কীভাবে তাদের ৪০০ কেজি ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্টক নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঠিক আগের ধাপ। এর আগে পর্যন্ত ইরান তাদের ইউরেনিয়াম বাইরে পাঠাতে অস্বীকার করলেও, যুদ্ধের ভয়াবহতা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান যদি সত্যিই তাদের এই পারমাণবিক শক্তি বা ‘নিউক্লিয়ার লিভারেজ’ ছেড়ে দেয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিগ্রহের অবসান হতে পারে।
এই চুক্তির প্রভাব পড়বে ভারতসহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে। ভারতের জ্বালানি চাহিদা অনেকাংশেই আমদানিনির্ভর, ফলে ইরান-মার্কিন এই সম্ভাব্য সমঝোতা তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। তবে এটি কি যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, নাকি ঝড়ের আগের সাময়িক বিরতি—তা সময় বলবে। এখন গোটা বিশ্বের নজর এই পরমাণু চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখার দিকে।





