আমানতকারীদের টাকা ফেরানোয় বাধা কোথায়? রোজভ্যালিকাণ্ডে ‘সিরিয়াস ফ্রড’ দপ্তরের এন্ট্রি, চাপে দিলীপ শেঠ কমিটি

রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলার তদন্তে এবার এক নজিরবিহীন মোড়। বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরানো নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছে কলকাতা হাইকোর্ট। এই বিশাল অঙ্কের সম্পত্তির ‘নয়ছয়’ রুখতে এবার SFIO (সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস)-কে ময়দানে নামার নির্দেশ দিল আদালত।

১২ ফেব্রুয়ারির ডেডলাইন, ফরেনসিক অডিটের পথে আদালত

মঙ্গলবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ এবং বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে:

  • প্রাথমিক রিপোর্ট: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে SFIO-কে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

  • ফরেনসিক অডিট: রিপোর্টে যদি আর্থিক অনিয়মের বিন্দুমাত্র ইঙ্গিত মেলে, তবে অবিলম্বে ফরেনসিক অডিট শুরু করতে হবে।

  • কেন্দ্রের ভূমিকা: কেন্দ্রীয় কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রককে এই তদন্তের জন্য দ্রুত আইনি অনুমোদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

কাঠগড়ায় দিলীপ শেঠ কমিটি?

রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিল আদালত। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ওই কমিটি বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি অন্য সংস্থাকে দিয়ে ব্যবসা করাচ্ছে এবং আর্থিক হিসেবনিকেশে ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে। সেবি (SEBI) বা ক্যাগ (CAG) এই অডিটের দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত SFIO-কেই দায়িত্ব দিল আদালত।

“টাকা পাচ্ছেন না কেন কেউ জানে না!”

এদিনের শুনানিতে আমানতকারীদের দুর্দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ। তিনি বিরক্তির সুরে বলেন:

“একাধিক অর্ডারে বলা হয়েছে টাকা ফেরাতে কোনও বাধা নেই, তবুও গত সেপ্টেম্বর থেকে কেন টাকা দেওয়া বন্ধ রেখেছে কমিটি, তা কেউ জানে না। ভুক্তভোগীরা আজও বঞ্চিত।”

রোজভ্যালির বিশাল সম্পত্তি কি তবে তলে তলে হাতবদল হচ্ছে? নাকি আমানতকারীদের প্রাপ্য টাকা নিয়ে চলছে লুকোচুরি? ১২ ফেব্রুয়ারি SFIO-এর রিপোর্টেই মিলতে পারে এই সবকটি প্রশ্নের উত্তর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy