২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ রাজনীতির পটপরিবর্তন যখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা, ঠিক তখনই টলিউডের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। রাজ্যে তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপির উত্থানের আবহে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক পোস্ট করলেন টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর নামে ছড়ানো একটি গুঞ্জন নিয়ে তিনি যে প্রবল বিরক্ত, তা আজ তাঁর স্পষ্ট বার্তাতেই ফুটে উঠেছে।
মঙ্গলবার ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই চারিদিকে নানা জল্পনা শুরু হয়— টলিপাড়ার কোন তারকা কোন শিবিরে ঝুঁকছেন? সেই আবহেই একটি খবর রটে যায় যে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় রাজনৈতিক কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে ফোন করেছেন। সেই জল্পনা ছড়িয়ে পড়তেই ময়দানে নামেন অভিনেতা।
সাফ বার্তা প্রসেনজিতের: নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, “দয়া করে আমার গায়ে কোনও রাজনৈতিক রং লাগাবেন না। আমি কাউকে কোনও ফোন করিনি। আমাকে নিয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াবেন না।” তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই টলিপাড়ার অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কেন এই সতর্কতা? বাংলার রাজনীতিতে টলিউড ও রাজনীতির মাখামাখি নতুন কিছু নয়। একাধিক তারকা যখন ঘাসফুল বা পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়ে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন, তখন প্রসেনজিৎ সবসময়ই নিজেকে সরাসরি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেছেন। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে তাঁর নামকে কোনো বিশেষ শিবিরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়াটা তিনি যে ভালোভাবে নিচ্ছেন না, তা আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
টলিপাড়ায় গুঞ্জন: রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত পেতেই অনেক তারকাই হয়তো শিবিরের পরিবর্তন নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন। কিন্তু ‘বুম্বাদা’ বরাবরের মতোই তাঁর পেশাদার সত্তাকেই গুরুত্ব দিতে চান। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অভিনেতা হিসেবে তাঁর পরিচয়ই সবথেকে বড় এবং সেখানে রাজনীতির কোনো জায়গা নেই।
প্রসেনজিতের এই সপাটে জবাবের পর সেই ‘নাম না জানা’ গুজব বা ফোনকলের বিতর্ক আপাতত থিতু হবে কি না, সেটাই দেখার। তবে ভোটের উত্তপ্ত আবহে টলিউডের মেগাস্টারের এই পোস্ট যে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।





