“আমাকে কেন চুপ করানো হচ্ছে?”-রাজ্যসভার পদ খোয়ালেন রাঘব, সংসদে জারি নিষেধাজ্ঞা?

আম আদমি পার্টি (AAP)-র অন্দরে ডামাডোল এবার প্রকাশ্যে। রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তরুণ সাংসদ রাঘব চাড্ডা। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াদের উদ্দেশে তাঁর সোজাসুজি প্রশ্ন— “আমায় কেন চুপ করানো হচ্ছে?”

সংসদে কথা বলায় ‘নিষেধাজ্ঞা’!

বৃহস্পতিবারই রাজ্যসভার সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে আপ নেতৃত্ব জানিয়েছে, রাঘব চাড্ডা আর ডেপুটি দলনেতা নন। শুধু তাই নয়, চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, দলের কোটা থেকে রাঘবকে ভাষণের জন্য যেন কোনও সময় বরাদ্দ না করা হয়। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের পরেই শুক্রবার ভিডিও বার্তায় ফেটে পড়েন রাঘব। তিনি বলেন, “আমি বরাবর সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা বলেছি— বিমানবন্দরের খাবারের দাম থেকে গিগ কর্মীদের অভাব-অভিযোগ। এতে দলের কী ক্ষতি হলো? কেন আমায় থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে?”

কেন ব্রাত্য রাঘব? নেপথ্যে ‘জেল-তত্ত্ব’

আপ সূত্রের খবর, কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়ার গ্রেফতারির সময় রাঘবের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ ভালো চোখে দেখেনি দল। অভিযোগ উঠেছে:

  • আবগারি মামলায় দলের দুই শীর্ষ নেতার জেল যাত্রার সময় সংসদে জোরালো সওয়াল করেননি রাঘব।

  • দলের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও তাঁকে সেভাবে দেখা যায়নি।

  • বিরোধী শিবিরের কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছিল দলকে।

ঘটনাচক্রে, কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই রাঘবের স্থলাভিষিক্ত হলেন সাংসদ অশোক মিত্তল

উত্থান থেকে পতন: এক নজরে রাঘব

২০১৫ সালে দিল্লির ক্ষমতা দখলের পর থেকেই কেজরিওয়ালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলেন রাঘব। জাতীয় মুখপাত্র থেকে শুরু করে দিল্লি জলবোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান— প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ২০২৩ সালে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায় আপ। কিন্তু সাম্প্রতিক ‘দূরত্ব’ তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিল।

২০১৯ সালে লোকসভায় হারলেও বিধানসভায় জয় পেয়েছিলেন রাঘব। কিন্তু বর্তমানে দলের অন্দরেই তিনি কোণঠাসা। এই বিদ্রোহের পর রাঘব চাড্ডা কি অন্য কোনও পথ বেছে নেবেন? নাকি কেজরিওয়ালের দাপটে থেমে যাবে তাঁর সংসদীয় কেরিয়ার? এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy