ভোটযুদ্ধ শেষ, এবার স্নায়ুযুদ্ধ। ৪ঠা জুনের চূড়ান্ত ফলের আগে ঘর গোছাতে কোমর বেঁধে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার বিকেলে কালীঘাট থেকে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্ট ও প্রার্থীদের বিশেষ পাঠ দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠক থেকেই একদিকে যেমন জয়ের প্রবল আত্মবিশ্বাস ধরা পড়ল, তেমনই বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রের’ তত্ত্ব খাড়া করে কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেন শীর্ষ নেতৃত্ব।
“২০০-র নিচে নামবে না তৃণমূল”
বৈঠকের শুরু থেকেই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে তৃণমূল নেত্রীকে। সূত্রের খবর, তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা ২০০-র বেশি আসনে জিততে চলেছি।” বুথফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’ নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের আপত্তির কথা এদিনও মনে করিয়ে দেন তিনি। মমতার দাবি, ২০২১-এর বিধানসভা বা ২০২৪-এর লোকসভার মতোই এবারও শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা রাখতে বিজেপিকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি একটি সাজানো কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।
লড়াকু কর্মীদের জন্য ‘পুরস্কার’
ভোটের ময়দানে যারা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ বা বিরোধীদের মার সহ্য করে মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন, তাঁদের জন্য এদিন বড় ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দলের কর্মীরা আপসহীন লড়াই করেছেন। যারা এই কঠিন পরিস্থিতিতে মার খেয়েছেন বা লড়াই চালিয়েছেন, তাঁদের দল যথাযথ সম্মান জানাবে এবং পুরস্কৃত করবে।” কর্মীদের এই ‘পুরস্কার’ দেওয়ার বার্তা গণনার আগে তাঁদের মনোবল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এজেন্টদের জন্য কড়া নজরদারির নির্দেশ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কাউন্টিং এজেন্টদের অত্যন্ত সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। গণনাকেন্দ্রে যাতে কোনোভাবেই কারচুপি না হয়, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কোথাও বিন্দুমাত্র গরমিল দেখলে সাথে সাথে প্রতিবাদ করার এবং আইনি পথে হাঁটার কৌশলও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এই বৈঠক থেকে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে সরব হয়ে অভিষেক বলেন, বাহিনীর একাংশ সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরির চেষ্টা করেছে। কিন্তু তৃণমূলের ফলাফল সেই সমস্ত বাধার জবাব দেবে বলে দাবি করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ফলের দিন সকাল থেকে কাউন্টিং হলের ভেতরে এবং বাইরে তৃণমূল যে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ, শনিবারের এই ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে সেই বার্তাই পরিষ্কার হয়ে গেল।





