লোকসভা নির্বাচনের উত্তাপ চরমে, আর সেই পারদ আরও বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে নির্বাচনী প্রচারের শেষ সভায় দাঁড়িয়ে বড় চমক দিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ৪ মে-র পর আবারও বাংলায় আসছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, ৪ মে পর্যন্তই হয়তো তাঁর বর্তমান দফার প্রচার সীমাবদ্ধ থাকবে, কিন্তু খোদ প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় সব জল্পনা বদলে গিয়েছে।
কেন আবারও আসছেন মোদী?
ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই পরবর্তী সফরের কারণ ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, বাংলার মানুষের ভালোবাসা এবং বিজেপি-র প্রতি জনসমর্থন তাঁকে বারবার এখানে টেনে আনছে। তবে সূত্রের খবর, নির্বাচনের পরবর্তী দফাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর হাওয়া নিজেদের অনুকূলে রাখতে এবং কর্মীদের চাঙ্গা করতেই মোদীর এই ‘রিটার্ন সফর’।
ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ
এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর ভাষণের মূল বিষয়গুলি ছিল:
দুর্নীতি ও তোলাবাজি: রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্দেশখালি ইস্যু— সব নিয়েই সরব হন তিনি।
বিজেপি-র সংকল্প: মোদী দাবি করেন, “বাংলায় এবার বিজেপি-র ফল ঐতিহাসিক হতে চলেছে।”
বিকাশের বার্তা: শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য বাংলায় বিজেপি-র প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।
৪ মে-র পর রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ মে-র পর প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এরপরই কলকাতা এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার অধিকাংশ হাই-ভোল্টেজ আসনে ভোটগ্রহণ বাকি থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ময়দানে থাকা মানেই সেই আসনগুলোতে বাড়তি মাইলেজ পাওয়া।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই ঘোষণা বিরোধী শিবিরে যেমন অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তেমনই গেরুয়া শিবিরে বয়ে এনেছে নতুন উদ্দীপনার জোয়ার। এখন দেখার, ৪ মে-র পরের সেই মেগা সফরে মোদী বাংলার জন্য আর কী নতুন চমক নিয়ে আসেন।





