রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পরিষেবা পেতে সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও হয়রানির অভিযোগ ছিল। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নবান্নের নির্দেশে চালু হলো রাজ্য সরকারের নতুন হেল্পলাইন পরিষেবা— ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’। মূলত সরকারি প্রকল্প ও বিভিন্ন পরিষেবার সুবিধা পেতে নাগরিকরা যাতে কোনো রকম বাধার সম্মুখীন না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, একের পর এক জনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১ জুন থেকে রাজ্যে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়াও। এই উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।
হেল্পলাইন ও যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য:
নাগরিকরা যেকোনো সমস্যার কথা জানাতে বা সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ জানাতে ফোন করতে পারেন ৮২৮২০৮২৮২০ নম্বরে। এছাড়া ইমেলের মাধ্যমেও অভিযোগ বা পরামর্শ জানানো যাবে। ইমেল ঠিকানা হলো— asap@wb.gov.in। পরিষেবাটি সপ্তাহের সোমবার থেকে শনিবার, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু থাকবে।
পাশাপাশি, রাজ্যের নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মহিলাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মহিলারা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন, তার জন্য বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোর ও সজাগ। মন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের নারীরা তাঁদের ইচ্ছেমতো পোশাক পরতে পারবেন এবং যেকোনো সময় বাইরে বেরোতে পারবেন। রাত ৮টার পর বাড়ি ফেরা নিয়ে তাঁদের কোনো কৈফিয়ত দিতে হবে না। বিজেপি সরকারের আমলে তাঁরা খোলা আকাশের নিচে স্বাধীনতার নিঃশ্বাস নেবেন।”
মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও সুনিশ্চিত করতে খুব দ্রুত ১৮১ (181) নম্বরটি চালু হতে চলেছে। এই নম্বরে ফোন করলে জিও ট্যাগিংয়ের (Geo-Tagging) মাধ্যমে পুলিশ সহজেই আক্রান্ত মহিলার অবস্থান শনাক্ত করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর সংকল্প অনুযায়ী, প্রতিটি থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক থাকবে। ১৮১ নম্বরে ফোন করলে সরাসরি নিকটস্থ থানার মহিলা ডেস্কের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে, ফলে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে। নীতিপুলিশির কবল থেকে মহিলাদের মুক্তি দিতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের প্রতিটি কোণায় সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই হেল্পলাইন এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছে প্রশাসন।





