জাতীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক এবং তার ঠিক পরপরই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক রাজধানীর অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, অস্তিত্ব সংকটের মোকাবিলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে মূল কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার (মার্জার) জল্পনা জোরদার হয়েছে।
কি সেই প্রস্তাব? সূত্রের খবর, বিজেপির ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে বিরোধী শক্তিকে একজোট করতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। জল্পনা রয়েছে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাঝারি বা বড় মাপের কোনো দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিশ্চিত করেনি।
দলীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া: তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল-কংগ্রেস বৈঠক করেছে কারণ তারা বিজেপি বিরোধী শক্তির কাছাকাছি আসতে চায়। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এককাট্টা হওয়া এখন সময়ের দাবি।”
অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করেছে। তিনি বলেন, “সোনিয়া গান্ধী অত্যন্ত উদার মানসিকতার মানুষ, তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দেন। তৃণমূল আজ যে পরিস্থিতির মুখোমুখি, তা তাদের নিজেদের ভুলের ফল। সংযুক্তি হবে কি না, তা শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক করবে। তবে কংগ্রেসের এখন নিজের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়ানোর এটাই সুবর্ণ সুযোগ।”
বাংলার রাজনীতির সমীকরণ: সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও একের পর এক নেতার বিদ্রোহ মমতাকে যে কোণঠাসা করেছে, তা স্পষ্ট। অধীর চৌধুরীর কথায়, বাংলার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক এখন কংগ্রেসের দিকে বিকল্প হিসেবে তাকাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে তৃণমূলের ভাঙন, অন্যদিকে এনডিএ-র দিকে বিধায়কদের ঝুঁকে পড়ার খবর— এই পরিস্থিতিতে মমতা-অভিষেক কি সত্যিই কংগ্রেসের ছাতার তলায় আশ্রয় নিতে চলেছেন? নাকি এটি কেবলই নির্বাচনী জোটের কৌশল? সব উত্তর মিলবে আগামীর দিনগুলোতে।





