অভিযোগ জানাতে আর হবে না সমস্যা, সব নির্বাচনী আধিকারিকের মোবাইল নম্বর প্রকাশের নির্দেশ সিইও-র!

আগামীকাল বাংলায় প্রথম দফার মহারণ। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ সামলাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে সব নির্বাচনী আধিকারিকের মোবাইল নম্বর থাকবে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে। শুধু তাই নয়, ফোন বন্ধ রাখা বা কল না ধরার মতো গাফিলতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)।

ফোন নম্বর প্রকাশ্যে আনার নির্দেশ কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ আসছিল যে, বহু ক্ষেত্রে নির্বাচনী আধিকারিকদের ফোন নম্বর পাওয়া যাচ্ছে না, অথবা তাদের ফোন বন্ধ থাকছে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে অভিযোগ জানানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিষয়টিকে ‘গুরুতর অনিয়ম’ হিসেবে চিহ্নিত করে সিইও নির্দেশ দিয়েছেন:

  • নির্বাচন কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি অফিসারের সক্রিয় মোবাইল নম্বর জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

  • সব সময় ফোন চালু রাখতে হবে এবং কল রিসিভ করতে হবে।

  • অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে হবে।

বাইক চলাচলে ‘সুপার’ কড়াকড়ি শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার বাইক চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে কমিশন। নিয়মগুলি একনজরে দেখে নিন:

  • মিছিল নিষিদ্ধ: ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনো বাইক র্যালি বা মিছিল করা যাবে না।

  • রাতের কার্ফু: ভোটের দু’দিন আগে থেকে রাত ১১টা (বা সন্ধে ৬টা) থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে মেডিকেল এমার্জেন্সি বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে।

  • সিঙ্গেল রাইডিং: দিনের বেলা (সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা) বাইকের পেছনে কাউকে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। ব্যতিক্রম কেবল স্কুল পড়ুয়া বা অসুস্থ রোগী।

  • ভোটের দিন নিয়ম: ভোটের দিন কেবল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বুথে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কারণে বাইক বের করলে স্থানীয় থানার লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক।

হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ এদিকে, কমিশনের এই বাইক সংক্রান্ত নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই মামলার জরুরি শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ একদিকে যেমন ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy