অতিথি দেবো ভব? নাকি লালসার শিকার! কর্ণাটকের কোদাগু জেলায় বেড়াতে এসে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন এক মার্কিন পর্যটক। হোম স্টে-র কর্মীর হাতে যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ রুখতে তাঁকে কার্যত ডিজিটাল বন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠল মালিকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় হোম স্টে মালিকসহ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ: ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ভৃজেশ কুমার কর্ণাটকের ওই হোম স্টে-তে কর্মী হিসেবে কাজ করত। অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে সে ঘরের ভেতরেই মার্কিন ওই তরুণীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। কিন্তু পাশবিকতার শেষ এখানেই ছিল না। ঘটনার কথা জানাজানি হলে বিপাকে পড়ার ভয়ে হোম স্টে মালিক নির্যাতিতার মুখ বন্ধ করার এক অমানবিক কৌশল নেন।
ওয়াইফাই বন্ধ করে ‘ডিজিটাল জেল’: পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর নির্যাতিতা যাতে আমেরিকার দূতাবাস বা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন, তার জন্য হোম স্টে-র ওয়াইফাই কানেকশন টানা তিনদিন বন্ধ করে রাখা হয়। এর ফলে ওই বিদেশিনী দীর্ঘ সময় কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি। একপ্রকার বন্দি দশায় কাটানোর পর কৌশলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে মহীশূরে পৌঁছান।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার: মহীশূরে পৌঁছেই তিনি আমেরিকার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দূতাবাস থেকে ইমেলের মাধ্যমে মহীশূর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত কর্মী ভৃজেশ কুমার এবং অপরাধ লুকানোর অভিযোগে হোম স্টে মালিককে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
কড়া হুঁশিয়ারি সরকারের: এই ঘটনায় কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন:
“দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হোম স্টে মালিকদের লাইসেন্স ও নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলতেই হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় কোনও আপস বরদাস্ত করা হবে না।”
এই ঘটনা ভারতের পর্যটন মানচিত্রে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।





