সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক অভাবনীয় খুশির খবর! এবার আর মাসের শেষ দিন পর্যন্ত চাতক পাখির মতো বেতনের অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে না। মাসে একবার নয়, বরং প্রতি ১৫ দিন অন্তর অর্থাৎ মাসে দু’বার বেতন দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। দেশের অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার করতে এবং বাজারে নগদ টাকার জোগান বাড়াতে এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
নেপালের অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬-এ মন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:
বাজারের তরল্য বৃদ্ধি: কর্মচারীদের হাতে ১৫ দিন অন্তর টাকা এলে বাজারে নিয়মিত কেনাকাটা বাড়বে, যা ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
আর্থিক সুবিধা: সাধারণ কর্মচারীরা মাসের মাঝপথে আর্থিক সংকটে পড়েন। ১৫ দিন অন্তর মাইনে পেলে তাঁদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে অনেক সুবিধা হবে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
প্রাথমিকভাবে এই নিয়ম চালু হচ্ছে অসামরিক কর্মচারী (Civil Servants), পুলিশ এবং সেনাবাহিনীসহ সমস্ত সরকারি কর্মীদের জন্য। ধাপে ধাপে এটি শিক্ষক এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার ক্ষেত্রেও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
আইনি পথে সংস্কার
নেপালের বর্তমান সংবিধান ও সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট অনুযায়ী মাসের শেষে বেতন দেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই এই নতুন নিয়মটি পাকাপাকিভাবে কার্যকর করতে আইনি সংশোধন বা অর্ডিন্যান্স (অধ্যাদেশ) জারির কথা ভাবছে সরকার। বেতন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা (FCGO) জানিয়েছে, প্রযুক্তিগতভাবে ১৫ দিন অন্তর মাইনে পাঠাতে তাদের কোনো সমস্যা নেই।
দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম নজির!
ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মাসের শেষে বেতন দেওয়ার প্রথা অত্যন্ত প্রাচীন। নেপালের এই সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে একটি বড়সড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশে এই ‘ফর্টনাইটি’ (Fortnightly) বেতন কাঠামো অত্যন্ত জনপ্রিয়, যা এবার হিমালয়ের এই দেশেও দেখা যাবে।





