ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (IT) সেক্টরে যেন শনির দশা! নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর মহিলা কর্মীদের ওপর নারকীয় নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শিরোনামে উঠে এল ইনফোসিস (Infosys)। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফোসিস বিপিএম (Infosys BPM) পুনে ক্যাম্পাসের বেশ কিছু মহিলা কর্মীকে হেনস্থার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই তড়িঘড়ি বিবৃতি দিতে বাধ্য হলো কর্তৃপক্ষ।
ইনফোসিসের সাফাই: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ ওঠার পর ইনফোসিস বিপিএম-এর তরফে জানানো হয়েছে:
কড়া নীতি: কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বা হেনস্থার বিরুদ্ধে সংস্থার “জিরো টলারেন্স” নীতি রয়েছে।
তদন্ত কমিটি: প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করা হয়।
স্পিক-আপ: কর্মীদের সমস্যা জানানোর জন্য ‘স্পিক-আপ’-সহ একাধিক ব্যবস্থা চালু আছে এবং সংস্থা সব সময় কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
TCS কাণ্ডে শিউরে ওঠা তথ্য: অফিস ছিল কট্টরপন্থার আখড়া!
ইনফোসিস নিয়ে জল্পনা বাড়ার মূল কারণ নাসিকের TCS-এর ভয়ংকর ঘটনাটি। সেখানে যা ঘটেছে, তা স্রেফ যৌন হেনস্থা নয়, বরং এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে:
যৌন ও মানসিক নির্যাতন: শাড়ি পরা বা ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে চলা হিন্দু মহিলা কর্মীদের টার্গেট করে যৌন হেনস্থা ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
ধর্মান্তরণের চাপ: অভিযোগ, মহিলা কর্মীদের জোর করে মাংস খাওয়ানো, নামাজ পড়তে বাধ্য করা এবং হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করা হতো।
নিদা খানের জাল: মূল চক্রী হিসেবে উঠে এসেছে নিদা খান নামে এক মহিলার নাম। সে নতুন মেয়েদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জয়েন করিয়ে ধীরে ধীরে ধর্মান্তরণের বিষ ছড়াত।
তদন্তে SIT: পলাতক মূলচক্রী
স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) জানতে পেরেছে, ২০২২ সাল থেকেই অফিসের ভেতরে এই কট্টরপন্থী কার্যকলাপ চলত। ছুটির পরও অফিসের ভেতর চলত সন্দেহজনক কাজ। অভিযুক্তদের পরিকল্পনা ছিল ঘুরতে যাওয়ার নাম করে কোনো রিসর্টে নিয়ে গিয়ে গণযৌন নির্যাতন চালানো।
বর্তমানে এই ঘটনায় ৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত অশ্বিনী চৈনানি ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে থাকলেও, মোবাইল ফেলে চম্পট দিয়েছে মূল পান্ডা নিদা খান। বাকি অভিযুক্ত দানিশ শেখ, শফি শেখ ও তৌসিফ আত্তারদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
ভারতের আইটি সেক্টরের এই অন্ধকার দিকটি সামনে আসায় আতঙ্কিত কয়েক লক্ষ চাকুরিজীবী ও তাঁদের পরিবার।





