বিশ্বজুড়ে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই এবার ভারতের মাটিতে মিলল ইবোলার মতো উপসর্গ থাকা রোগীর সন্ধান। আফ্রিকা থেকে আসা মোট ৪ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আতঙ্ক।
কোথায় কতজন সন্দেহভাজন?
সেকেন্দ্রাবাদ: তেলেঙ্গানার গান্ধি হাসপাতালে এই মুহূর্তে ইবোলা সন্দেহভাজন ৩ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে দু’জন সুদান থেকে এসেছেন এবং তৃতীয়জন সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। বিমানবন্দরের বিশেষ স্ক্রিনিংয়ে উপসর্গ ধরা পড়ার পর তাদের দ্রুত আইসোলেশনে পাঠানো হয়।
জয়পুর: রাজস্থানের আরইউএইচএস হাসপাতালে উগান্ডা ফেরত এক বিদেশি মহিলাকে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শরীরে ইবোলার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ অত্যন্ত সতর্ক।
কী জানিয়েছেন চিকিৎসকরা? গান্ধি হাসপাতালের ইবোলা নোডাল অফিসার ডা. সুনীল কুমার জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহ করে পুনের ‘ন্যাশনাল ভাইরোলজি ল্যাব’-এ পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট আসতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তত দিন পর্যন্ত তাদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হবে। জয়পুরের আরইউএইচএস হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. অনিল গুপ্ত জানিয়েছেন, ওই মহিলার সংক্রমণ নিশ্চিত নয়, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সমস্ত প্রোটোকল মেনে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
কেন এই সতর্কতা? গত ২৪ মে কেন্দ্রীয় সরকার কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান এবং উগান্ডা ভ্রমণে ভারতীয়দের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বর্তমানে আফ্রিকায় ইবোলার পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রীদের স্ক্রিনিং এবং নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: স্বাস্থ্য মন্ত্রক প্রতিটি বিমানবন্দরের মেডিক্যাল টিমকে নির্দেশ দিয়েছে, আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের প্রতিটি গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখতে। কোনো সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলেই তাদের আলাদা করে পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও ট্র্যাক করার কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত এই পরিস্থিতির ওপর জাতীয় স্তরে নজর রাখা হচ্ছে।





