৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া। তৃণমূলের ক্ষমতাচ্যুতি এবং ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমূল বদলে গেল কালীঘাটের পরিচিত ছবিটা। দীর্ঘ বছর ধরে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং হরিশ মুখার্জি লেনের যে অঞ্চলগুলি কার্যত ‘নিশ্ছিদ্র দুর্গ’ হয়ে থাকত, সেখান থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কালীঘাটে অবারিত দ্বার এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় বন্ধই থাকত। মোতায়েন থাকত বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই দেখা গেল অন্য ছবি। গেটের সামনে থাকা পুলিশ বুথ এখন জনশূন্য। ব্যারিকেড সরে গিয়েছে, গলির মুখে পাহারায় থাকা পুলিশকর্মীরাও মঙ্গলবার সকালের মধ্যে এলাকা ছেড়েছেন। ফলে এখন তৃণমূল নেত্রীর পাড়ায় যাতায়াত অবাধ।
নিরাপত্তা নিয়ে কী বলছেন ডিজিপি? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কি তবে সত্যিই কমিয়ে দেওয়া হলো? এই জল্পনার মাঝেই মুখ খুললেন রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP) সিদ্ধনাথ গুপ্তা। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো বেআইনি কাটছাঁট করা হয়নি। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। রুলবুক বা ‘ইয়ালো বুক’ অনুযায়ী এই ক্যাটাগরিতে যেটুকু নিরাপত্তা থাকা দরকার, তা বজায় থাকবে। তবে এই নির্ধারিত গণ্ডির বাইরে যে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন ছিল, কেবল সেটুকুই প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
অভিষেকের অফিস ও বাসভবনেও বড় বদল পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। তাঁর দক্ষিণ কলকাতার বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’ এবং ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয় থেকেও পুলিশি ঘেরাটোপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ছিল, সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও অভিষেক কার্যত একজন মুখ্যমন্ত্রীর সমতুল্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ভোগ করতেন। এখন থেকে একজন সাংসদ আইনিভাবে যতটা নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য, ঠিক ততটুকুই তাঁকে দেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর প্রশাসনের এই তৎপরতা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত’ দাপট আর যে থাকছে না, কালীঘাটের ফাঁকা পুলিশি বুথগুলিই যেন সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।





