পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে কি তবে বড়সড় বদল ঘটে গিয়েছে? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে এবার এক বিস্ফোরক দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ কথা, বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সম্পূর্ণ ‘অপ্রাসঙ্গিক’। যে দাপট নিয়ে তিনি একসময় নবান্ন শাসন করেছেন, সেই দিন এখন অতীত বলে দাবি করেছেন এই বিজেপি নেতা।
নির্বাচনী ফলাফল এবং পরবর্তী পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, বাংলার মানুষ এখন নতুন বিকল্প এবং উন্নয়নের ভাষা বুঝতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো যেভাবে জনাদেশকে চ্যালেঞ্জ করছেন বা দিল্লির বিরুদ্ধে সংঘাতের পথে হাঁটছেন, তাকে আসলে তাঁর ‘রাজনৈতিক অস্তিত্ব’ টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর বক্তব্যের মূল সুর: বিরোধী দলনেতার দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের অন্দরেও এখন ফাটল স্পষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা আর দলের নিচুতলার কর্মীরা আগের মতো মেনে নিচ্ছেন না। শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা। ওঁর রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বাংলার মানুষই মুছে দিয়েছে। এখন কেবল সময় গণনা চলছে।”
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যকে অবশ্য কোনো গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। ঘাসফুল শিবিরের পালটা দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বাংলার একমাত্র বিকল্প এবং তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দেশের রাজনীতিতে অনস্বীকার্য। শুভেন্দু পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে প্রলাপ বকছেন বলেও কটাক্ষ করেছে জোড়াফুল শিবির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ার প্রস্তুতি নিতেই বিরোধী শিবিরের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে চাইছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়া এবং আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা এই বিতর্ককে আরও অক্সিজেন জুগিয়েছে।
বাংলার মসনদে কার পাল্লা ভারী থাকবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি সত্যিই তাঁর জৌলুস হারিয়েছেন? উত্তর মিলবে সময়ের সাথে। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য প্রতি মুহূর্তের আপডেট থাকবে আমাদের পেজে।





