গুগলের জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব (YouTube) তার ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে যুক্ত করতে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নির্ভর এক অত্যাধুনিক সার্চ ফিচার। এই নতুন ফিচারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘Ask YouTube’। বর্তমানে এটি বিটা টেস্টিং (Beta Testing) পর্যায়ে রয়েছে। মূলত সার্চ রেজাল্টকে আরও বেশি তথ্যসমৃদ্ধ, আকর্ষণীয় এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব করে তুলতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল।
গুগল সাপোর্ট পেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ফিচারটি ইউটিউবের বর্তমান সার্চ অপশনের ভেতরেই একটি চ্যাটবটের মতো কাজ করবে। সাধারণ সার্চের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা কেবল ভিডিওর তালিকা পান, কিন্তু ‘Ask YouTube’ ফিচারে মিলবে সুসংগঠিত এবং কথোপকথনমূলক উত্তর। প্রাথমিকভাবে এই পরিষেবাটি আমেরিকার ১৮ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হচ্ছে। তবে শর্ত হলো, শুরুতে শুধুমাত্র ইউটিউব প্রিমিয়াম (YouTube Premium) গ্রাহকরাই এই বিশেষ সুবিধার স্বাদ নিতে পারবেন।
ইউটিউব এই ফিচারের ক্ষমতা বোঝাতে একটি চমকপ্রদ উদাহরণ দিয়েছে। ধরুন, আপনি স্যান ফ্রান্সিসকো থেকে সান্তা বারবারা পর্যন্ত তিন দিনের একটি রোড ট্রিপের পরিকল্পনা করছেন। সাধারণ ইউটিউব সার্চে এই বিষয়ে সার্চ করলে আপনি কেবল কিছু ভিডিওর তালিকা পাবেন। কিন্তু ‘Ask YouTube’-কে এই প্রশ্নটি করলে, চ্যাটবটটি আপনাকে ধাপে ধাপে একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ পরিকল্পনা বা আইটিনারি (Itinerary) তৈরি করে দেবে। শুধু তাই নয়, সেই পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সেরা লং-ফর্ম ভিডিও, ইউটিউব শর্টস এবং প্রয়োজনীয় টেক্সট বা তথ্যও সাজিয়ে দেবে।
এই ফিচারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর গভীরতা। আপনি যদি আপনার ভ্রমণের পথে সেরা কফির দোকান বা স্থানীয় কোনো লুকানো পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে জানতে চান, তবে এই AI চ্যাটবট আপনাকে নিখুঁত পরামর্শ দেবে। এটি আপনার সার্চের জবাব শুধু ভিডিওর মাধ্যমে নয়, বরং একজন ব্যক্তিগত গাইডের মতো টেক্সট এবং টিপস দিয়ে সাহায্য করবে।
ইউটিউবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ব্যবহারকারীদের অনুসন্ধিৎসা মেটাতে এবং যেকোনো বিষয়কে আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করাই এই ফিচারের মূল লক্ষ্য। প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের ফিডব্যাকের ওপর ভিত্তি করে খুব শীঘ্রই বিশ্বের সমস্ত প্রান্তের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে। প্রযুক্তির দুনিয়ায় এই AI নির্ভর পরিবর্তন ইউটিউব দেখার ধরনকে চিরতরে বদলে দিতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





