লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় ভবানীপুর নিয়ে বিষ্ফোরক দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক হারের স্মৃতি উসকে দিয়ে শুভেন্দু এবার দাবি করেছেন, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও বিপাকে পড়তে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দুর তোলা একাধিক অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভবানীপুর এলাকার ভোট প্রক্রিয়া। তিনি দাবি করেন, এই কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যায় “ভুয়ো ভোট” পড়েছে। বিরোধী দলনেতার কথায়, “ভবানীপুরের বেশ কিছু বুথে বোরখা পরে এসে মহিলারা একাধিকবার ভোট দিয়েছেন। ভোটার আইডি কার্ডের সঙ্গে তাঁদের চেহারার কোনো মিল দেখা হয়নি।” তাঁর অভিযোগ, এই পদ্ধতি অবলম্বন করে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের ভোট ব্যাংক নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।
এখানেই শেষ নয়, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু আরও বড় অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের দিন ভবানীপুরের রাস্তাঘাটে এমন কিছু স্লোগান শোনা গিয়েছে যা সাধারণত প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে ব্যবহার করা হয়। তাঁর মতে, বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের ভোটকে একত্রিত করতে এবং হিন্দুদের ভয় দেখাতে এই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “নন্দীগ্রামে যা হয়েছে, ভবানীপুরেও সেই হারের পুনরাবৃত্তি হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।”
শুভেন্দুর এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় পালটা সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্রদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এখন অবান্তর অভিযোগ তুলছেন বিরোধী দলনেতা। ভবানীপুর বরাবরই মমতার শক্ত ঘাঁটি এবং সেখানকার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। তবে বোরখা পরে ভোটদান বা স্লোগান নিয়ে শুভেন্দুর এই সুনির্দিষ্ট দাবি কি নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে? না কি এটি কেবলই একটি রাজনৈতিক কৌশল? সেই উত্তর মিলবে আগামী ৪ জুন। আপাতত ভবানীপুর নিয়ে শুভেন্দুর এই ‘বিরাট’ দাবিতে সরগরম বাংলার অন্দরমহল।





