UPI লেনদেনে কি বড়সড় বদল আনতে চলেছে RBI? টাকা পাঠানোর আগে দিতে হবে বিশেষ অনুমতি!

ডিজিটাল লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম UPI-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানোর নিয়মে খুব শীঘ্রই বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। অনলাইন আর্থিক প্রতারণা এবং জালিয়াতির ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলায় তা কঠোর হাতে দমন করতে ব্যাঙ্কগুলির তরফে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) কাছে একটি নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সন্দেহজনক বা তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন হলে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটার ঠিক আগে মোবাইলে ‘Yes/No’ লেখা একটি অতিরিক্ত কনফার্মেশন বা নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে। গ্রাহক যতক্ষণ না নিজের মোবাইল থেকে স্পষ্টভাবে ‘Yes’ বা হ্যাঁ অপশনটি নির্বাচন করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই পেমেন্টটি সম্পন্ন হবে না।
তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কি সমস্ত UPI পেমেন্টের ক্ষেত্রেই কি এই বাড়তি অনুমতির প্রয়োজন হবে? ব্যাঙ্কের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি সাধারণ UPI লেনদেনের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। ব্যাঙ্কের অত্যাধুনিক প্রতারণা শনাক্তকারী প্রযুক্তি বা এআই সিস্টেম যখন কোনো লেনদেনকে সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক হিসেবে চিহ্নিত করবে, ঠিক তখনই গ্রাহকের কাছে এই বাড়তি সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। অর্থাৎ, কোনো লেনদেন যদি একজন গ্রাহকের স্বাভাবিক খরচের প্যাটার্ন বা ধরন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বলে মনে হয়, তবেই টাকা পাঠানোর চূড়ান্ত ধাপের আগে তাঁকে আরও একবার সতর্ক করা হবে।
কোন ধরনের লেনদেনগুলিকে ঝুঁকিপূর্ণ বা সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করা হতে পারে, তার সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি এখনও চূড়ান্ত না হলেও ব্যাঙ্কগুলির প্রস্তাব অনুযায়ী বেশ কিছু কারণ এর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বড় অঙ্কের টাকা পাঠানো, প্রথমবার কোনো অজানা ব্যক্তি বা নতুন অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর, সম্পূর্ণ নতুন কোনো মোবাইল বা ভিন্ন ডিভাইস থেকে লেনদেন করা, কোনো অপরিচিত জায়গা থেকে পেমেন্ট করার চেষ্টা, গ্রাহকের নিয়মিত খরচের ধরণ বা হ্যাবিটসের সঙ্গে লেনদেনের অসঙ্গতি এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক অস্বাভাবিক পেমেন্টের প্রচেষ্টা। ব্যাঙ্কগুলির উন্নত ঝুঁকি শনাক্তকারী প্রযুক্তি গ্রাহকের পেমেন্ট প্যাটার্ন নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে এই ধরনের অসঙ্গতি বা জালিয়াতির চেষ্টা ধরার চেষ্টা করবে।
বর্তমান সময়ে UPI সংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণার একটি বড় অংশ প্রযুক্তিগত বা সার্ভার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নয়, বরং ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মতো মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের মাধ্যমে ঘটছে। প্রতারক চক্র প্রায়শই ভুয়ো ফোন কল, প্রতারণামূলক মেসেজ, ক্ষতিকর লিঙ্ক কিংবা নকল কাস্টমার কেয়ার নম্বর ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে এবং তাড়াহুড়ো করে টাকা পাঠাতে প্ররোচিত করে। যেহেতু UPI পেমেন্ট অত্যন্ত দ্রুত এবং তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে জালিয়াতির শিকার হওয়ার পর সেই টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত জটিল, তাই গ্রাহক প্রতারিত হওয়ার আসল বিষয়টি বুঝতে পারার আগেই অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বস্ব ফাঁকা হয়ে যায়। ব্যাঙ্কগুলির দৃঢ় ধারণা, সন্দেহজনক লেনদেনের ঠিক আগে এই অতিরিক্ত সতর্কবার্তা ও কনফার্মেশনের সুযোগ থাকলে গ্রাহক অন্তত কয়েক সেকেন্ড থেমে বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ পাবেন, যা জালিয়াতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।