বড় স্বস্তি পেলেন ব্রিজ ভূষণ! মহিলা কুস্তিগিরদের যৌন হেনস্থা মামলা থেকে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস প্রাক্তন ডব্লিউএফআই প্রধান!

যৌন হেনস্থার চাঞ্চল্যকর ও হাই-প্রোফাইল মামলায় বিরাট আইনি স্বস্তি পেলেন ‘রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া’ (ডব্লিউএফআই)-এর বিতর্কিত প্রাক্তন প্রধান তথা বিজেপির সাবেক সাংসদ ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং। সোমবার দিল্লির একটি বিশেষ আদালত ছয়জন মহিলা কুস্তিগীরের দায়ের করা যৌন হেনস্থার সমস্ত অভিযোগ থেকে ব্রিজ ভূষণকে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস করে দিয়েছে। আদালতের এই রায়ের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক এবং ক্রীড়া মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতের রায়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেন যে, তিনি শুরু থেকেই নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে আসছিলেন। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, “আমি একদম প্রথম দিনই প্রকাশ্যে বলেছিলাম যে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো যদি একবিন্দুও সত্য প্রমাণিত হয়, তবে আমি আত্মহত্যা করব। আজ আমি আদালতের বিচারে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস পাওয়ায় অত্যন্ত আনন্দিত। এটা আমার, আমার পরিবার এবং আমার সমস্ত সমর্থকদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির এবং খুশির খবর।”
উল্লেখ্য, ডব্লিউএফআই প্রধান হিসেবে তাঁর কার্যকালে যে ছয়জন মহিলা ক্রীড়াবিদ যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রধান অভিযোগকারী হিসেবে সামনে এসেছিলেন প্রখ্যাত কুস্তিগীর ভিনেশ ফোগাট। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই গোটা আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল। যদিও ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং প্রথম দিন থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। ভারতীয় খেলাধুলার ইতিহাসে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব ও ব্যাপক বিক্ষোভের ঝড় উঠেছিল। ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক এবং বজরং পুনিয়ার মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় অলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগীররা ব্রিজ ভূষণের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং ডব্লিউএফআই থেকে তাঁর অপসারণের জোরালো দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার ধর্না ও আন্দোলন চালিয়েছিলেন।
সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নতুন সংসদ ভবনের দিকে প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের লং মার্চ বা মিছিল করার সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে আটকের ঘটনা গোটা দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছিল। যার ফলে ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্র বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকে এক ভিডিও বার্তায় অন্যতম অভিযোগকারী ভিনেশ ফোগাট অভিযোগ করেছিলেন যে, যৌন হেনস্থার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই তিনি প্রথমে নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। ভিনেশ আরও অভিযোগ করেছিলেন যে, বর্তমান রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়াও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং-এর ছায়া ও দাপট দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করে চলেছে। তাঁর দাবি ছিল, গোন্ডায় সিং-এর মালিকানাধীন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে ক্রীড়াবিদদের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে প্রতিযোগিতা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
এর আগেও ব্রিজ ভূষণের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি পৃথক নাবালিকা কুস্তিগীর সংক্রান্ত মামলায় দিল্লি আদালত মামলাটি বাতিলের সুপারিশকারী পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করায় তিনি আইনি অব্যাহতি পেয়েছিলেন। বিগত তিন বছর ধরে ভারতীয় কুস্তির ইতিহাসে ব্রিজ ভূষণের বিরুদ্ধে ওঠা এই যৌন হেনস্থার অভিযোগ এবং তার জেরে তৈরি হওয়া প্রতিবাদী আন্দোলন অন্যতম আলোচিত এবং ঝড় তোলা অধ্যায় হয়ে রয়েছে। বর্তমান আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন প্রভাবশালী এই রাজনীতিক।