UGC NET-এ বাংলার দুই কন্যার অভাবনীয় সাফল্য, শিক্ষিকা ও গবেষক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে নিলুফা ও রিক্তা

ব্যর্থতার অন্ধকার পেরিয়ে আলোর দিশা দেখালেন বাংলার দুই কৃতি কন্যা। সর্বভারতীয় ইউজিসি-নেট (JRF) পরীক্ষায় দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করে তাঁরা শুধু নিজেদের জীবনই বদলে দেননি, বহু তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। কাটোয়ার নিলুফা ইয়াসমিন ১০০ পার্সেন্টাইল নম্বর পেয়ে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্কে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন, আর মধ্যমগ্রামের রিক্তা চক্রবর্তী জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশনে সর্বভারতীয় স্তরে দ্বিতীয় হয়েছেন। তাঁদের এই সাফল্য আগামী দিনের স্বপ্নকে আরও রঙিন করে তুলেছে।
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের পালিটা রোড এলাকার বাসিন্দা নিলুফার এই চূড়ান্ত সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর অবিচল মনোযোগ, কঠোর অধ্যবসায় এবং অদম্য জেদ। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তিনি ইউজিসি নেটের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। নিলুফা জানান, এর আগেও দু’বার তিনি এই পরীক্ষায় বসেছিলেন এবং ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। অনেকেই হয়তো সেখানেই থেমে যেতেন, কিন্তু নিলুফা প্রতিবার ব্যর্থতার পর নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন, নিজের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে এগিয়ে গিয়েছেন এবং শেষমেশ প্রত্যাশিত সাফল্যও পেয়েছেন।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নিলুফা বলেন, “দেশের একজন শিক্ষিকা হিসেবে গবেষণায় অবদান রাখতে চাই। উচ্চশিক্ষার জগতে কিছু অর্থবহ কাজ করতে চাই। ভবিষ্যতে পিএইচ.ডি-তে ভর্তি হয়ে গবেষণার মাধ্যমে সমাজে কিছু ফিরিয়ে দেওয়াই এখন লক্ষ্য।”
অন্যদিকে, মধ্যমগ্রাম বিধানপল্লির বাসিন্দা রিক্তা চক্রবর্তী জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশনে ইউজিসি নেটে সর্বভারতীয় স্তরে দ্বিতীয় হয়েছেন। দুটি পেপার মিলিয়ে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৯৯.৯৯ শতাংশ। শিক্ষিকা হওয়ার সুযোগ থাকলেও এই কৃতী ছাত্রী গবেষণা করতে চান বলেই জানিয়েছেন।
মাত্র সাত বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন রিক্তা। এরপর তাঁর মা রিনাদেবী রেলে চাকরি পেয়ে সংসারের হাল ধরেন। মধ্যমগ্রাম গার্লস হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর রিক্তা দক্ষিণেশ্বরের হীরালাল মজুমদার মেমোরিয়াল কলেজ ফর উইমেন থেকে স্নাতক হন। ২০২২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশনে স্নাতকোত্তর পাশ করার পর তিনি নেটের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন।
চলতি বছর জুনে এই পরীক্ষার পর ২১ জুলাই ফলপ্রকাশ হয়, যেখানে দেখা যায় রিক্তা তাঁর বিষয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। এই খবর জানতে পেরে বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ রিক্তার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। চেয়ারম্যান বলেন, “মধ্যমগ্রামের মেয়ের এই সাফল্য আমাদের কাছে গর্বের। আমরা সবসময় পরিবারের পাশে আছি।”
নিজের সাফল্যে পরিবার এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবদানের কথা স্বীকার করে রিক্তা জানান, “পরিবার সবসময় আমায় পাশে থেকেছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষকতার সুযোগ থাকলেও এত দূর যখন পড়াশোনা করেছি, তখন আরও একটু পড়াশোনা করতে চাই। তাই গবেষণা করব বলেই ঠিক করেছি।”
নিলুফা এবং রিক্তা— এই দুই বঙ্গকন্যা তাঁদের কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে প্রমাণ করে দিলেন যে, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। তাঁদের এই সাফল্য দেশের হাজার হাজার পরীক্ষার্থীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাবে।