উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পর এবার প্রতিবেশী রাজ্য অসমেও পেশ হলো অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) বিল। বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে UCC লাগু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অসমে বিল পেশের পর এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে যে, এবার কি তবে বাংলার পালা?
অসমের UCC বিলে কী কী রয়েছে? সোমবার অসম বিধানসভায় পেশ করা ১৫৪ পাতার এই বিলটি বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করবে। বিলের প্রধান দিকগুলি হলো:
লিভ-ইন রিলেশনে কড়াকড়ি: এখন থেকে কোনো যুগল লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে চাইলে তা স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। অসমের বাসিন্দা হয়ে রাজ্যের বাইরে থাকলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নিয়ম না মানলে থাকছে শাস্তির বিধান।
বিয়ের নতুন শর্ত: পাত্রের বয়স অন্তত ২১ এবং পাত্রীর বয়স ১৮ বছর হতে হবে। বিয়ের সময় স্বামী বা স্ত্রীর অন্য কোনো বৈধ জীবনসঙ্গী জীবিত থাকা চলবে না। আগের কোনো বিয়ে আইনিভাবে বিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না।
রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক: বিয়ের ৬০ দিনের মধ্যে এবং বিবাহবিচ্ছেদের ৬০ দিনের মধ্যে তা সরকারি খাতায় নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সম্পত্তি বণ্টনে লিঙ্গসমতা: কোনো ব্যক্তি উইল না করে মারা গেলে, তাঁর সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে স্ত্রী/স্বামী, সন্তান ও বাবা-মাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে লিঙ্গসমতার ভিত্তিতে উত্তরাধিকার আইন কার্যকর করা হবে।
বাংলায় কি UCC আসার পথে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অসমের এই বিলটি রাজ্য সরকারের আগের কিছু পদক্ষেপ—যেমন ‘বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইন ২০২৫’ এবং ‘মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধন আইন ২০২৪’-এর এক বিস্তৃত রূপ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই রাজ্যে UCC আনার ব্যাপারে সরব হয়েছিলেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপ কোনো বিল আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই বিল নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে এবং বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানিয়েছে।
তবে, অসমে এই আইনের আওতা থেকে ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ১২.৪৪ শতাংশ থাকা তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়কে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বাংলায় যদি সত্যিই UCC লাগু হয়, তবে তার খসড়া কাঠামো কেমন হয় এবং তা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।





