TMC-নেতাদের ‘ডিম থেরাপি’! বালি মাফিয়াকে ঘিরে জনরোষের চরম বহিঃপ্রকাশ জনতার

ফের রাজ্যে রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীদের ওপর ‘ডিম-হামলা’। এবার ঘটনাস্থল দুর্গাপুর আদালত চত্বর। পাণ্ডবেশ্বরের এক স্থানীয় তৃণমূল নেতা নিত্যানন্দ অধিকারী (নীতু মাস্টার) এবং বালি মাফিয়া যুধিষ্ঠির ঘোষকে আদালতে তোলার সময় সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হলো তাঁদের। অভিযুক্তদের পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় একদল মানুষ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে তাঁদের লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছুঁড়তে শুরু করেন।

কী ঘটনা ঘটেছিল? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় বালি মাফিয়া যুধিষ্ঠির ঘোষকে পুলিশ গ্রেফতার করে। অন্যদিকে, নির্বাচনকালীন হুমকি, হিংসা এবং বোমাবাজির অভিযোগে পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ স্থানীয় তৃণমূল নেতা নিত্যানন্দ অধিকারীকে গ্রেফতার করেছিল। এদিন দু’জনকেই দুর্গাপুর আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত চত্বর থেকে বের করে পুলিশ ভ্যানে তোলার মুহূর্তেই শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা।

নিত্যানন্দ অধিকারীর বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ: তৃণমূল নেতা নিত্যানন্দ অধিকারীর বিরুদ্ধে কেবল রাজনৈতিক অশান্তিই নয়, উঠেছে আরও গুরুতর ও মানবিক অভিযোগ। এক মহিলার আত্মহত্যার নেপথ্যে তাঁর মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন মৃতার স্বামী সুশান্ত সূত্রধর। সুশান্তের দাবি, নিত্যানন্দবাবুর হুমকি ও নজরদারির জেরেই তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। এছাড়া বেলডাঙার অন্য এক বাসিন্দা উর্মিলা দেবীর অভিযোগ, তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার জন্য তাঁর বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

রাজনৈতিক তরজা: ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিজেপি মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের দাবি, “গত কয়েক বছরে এলাকায় বালি ও কয়লা মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছিল। দুর্নীতি ও বেআইনি ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত, বর্তমান সরকার কাউকেই রেয়াত করবে না।”

পুলিশি তৎপরতা: আদালত চত্বরে এই ধরণের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনা ছড়ানোর ঘটনায় স্থানীয় মানুষজনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ এবং আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy