রাত পোহালেই গণতন্ত্রের মহোৎসব। ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। প্রচারের ময়দানে তৃণমূল ও বিজেপির হাই-ভোল্টেজ লড়াই শেষ হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধেতেই। কিন্তু রাজনৈতিক অন্দরমহল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীদের ড্রয়িং রুম—এখন একটাই প্রশ্ন, বাংলার মসনদে কে? ঠিক এই আবহেই সামনে এল আন্তর্জাতিক প্রেডিকশন মার্কেট বা ‘বাজি বাজার’-এর এক বিস্ফোরক রিপোর্ট।
কী এই প্রেডিকশন মার্কেট? এটি এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (যেমন ক্রিপ্টো-ভিত্তিক Polymarket), যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ ভবিষ্যৎ ঘটনা নিয়ে নিজেদের বাজি ধরেন। সহজ কথায়, কোনো দল জিতবে বলে মনে করলে সেই দলের ‘শেয়ার’ কেনা হয়।
পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড লেনদেন! বর্তমানে যে পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে (অসম, কেরালা, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও পশ্চিমবঙ্গ), তার মধ্যে বাজি ধরার শীর্ষে রয়েছে বাংলা। পলিমার্কেট-এর তথ্য অনুযায়ী:
পশ্চিমবঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ ইতিমধ্যেই ২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৬ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গিয়েছে।
তামিলনাড়ু বা কেরালার মতো রাজ্যগুলোতে ফলাফল নিয়ে মানুষ যতটা নিশ্চিত, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে চিত্রটা ঠিক ততটাই ধোঁয়াশা।
লড়াই কি তবে সমানে-সমানে?
West Bengal state election currently has the highest traded volume among all Indian state elections.
Very interesting data point from Polymarket.
More than $2 million in volume now. pic.twitter.com/SkGqyLuJVy
— Save Invest Repeat 📈 (@InvestRepeat) April 21, 2026
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রেডিকশন মার্কেটে লেনদেন তখনই বাড়ে, যখন লড়াই হয় ‘হাড্ডাহাড্ডি’। পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ লেনদেন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে এবার সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর হতে চলেছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, অন্যদিকে বিজেপির ক্রমবর্ধমান সংগঠন—এই দুয়ের টানাপোড়েনে ফলাফল এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।
আইনি জটিলতা ও বাস্তব চিত্র ভারতে নির্বাচনের ফল নিয়ে বাজি ধরা আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু যেহেতু এই প্ল্যাটফর্মগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি ভিত্তিক এবং ভারতের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার বাইরে, তাই আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার ভোট নিয়ে এই উন্মাদনা রুখতে পারছে না কেউ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বাজি বাজারের ট্রেন্ড সরাসরি জনমতের প্রতিফলন না হলেও, পরিস্থিতির জটিলতা বোঝার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
বাংলার জনতা শেষ হাসি কার মুখে ফোটাবে, তা জানতে এখন ৪ মে-র অপেক্ষা। তবে তার আগে বাজি বাজারের এই ‘ক্লোজ কনটেস্ট’-এর ইঙ্গিত কিন্তু দুই শিবিরের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।





