TMC-র ৪৪০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করল ED, ফ্রিজ করা হলো ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্টও

তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর বড়সড় আর্থিক আঘাত হেনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আর্থিক অনিয়ম ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দলটির তিনটি এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। কলকাতা ও তার আশেপাশের পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালানোর পরই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কী অভিযোগ ইডির?
ইডি সূত্রে খবর, ‘কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজ’-এর মাধ্যমে বেআইনি অর্থ সংগ্রহ এবং তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। পিএমএলএ (PMLA) ২০০২ ধারায় এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে।
১৬০ কোটি টাকার গোলকধাঁধা:
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ‘মেসার্স কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ ও তাদের সহযোগী সংস্থার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেই টাকা ব্যবহার করে একটি ‘এমব্রায়ার লিগ্যাসি ৬০০’ বিমান এবং একটি ‘অগুস্তা ১০৯ গ্র্যান্ড নিউ’ হেলিকপ্টার কেনা হয়। এই কেনাকাটায় মোট ১১২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বলে দাবি ইডির।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০২৩ সালে কেম্যান আইল্যান্ডস-ভিত্তিক একটি সংস্থার কাছ থেকে ১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অসুরক্ষিত ঋণ নেওয়া হয়েছিল, যা হেলিকপ্টার কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য: ইডির অভিযোগ, এই বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার অর্থ এসেছিল তৃণমূলের তহবিল থেকে। অথচ, কেনার পর সেই বিমান ও হেলিকপ্টারগুলিই চড়া ভাড়ায় তৃণমূলকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। অর্থাৎ, দলেরই টাকায় কেনা বিমান দলকেই ভাড়া দেওয়ার নামে এই বিশাল অঙ্কের টাকা সরানোর কারসাজি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার।
আপাতত এই গোটা আর্থিক লেনদেনের মূল উদ্দেশ্য এবং এর নেপথ্যে থাকা আসল সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।