TMC-থেকে আসা নেতাদের নিয়ে BJP-র অন্দরে চাপানউতোর, দরজা কি খোলা থাকবে?

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘দলবদল’ ইস্যু নিয়ে রাজ্য বিজেপির অন্দরে মতপার্থক্য স্পষ্ট। একদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের অনড় অবস্থান—অন্য দল থেকে কাউকে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কৌশল—বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ। এই পরিস্থিতিতে খবর পাওয়া যাচ্ছে, শুভেন্দুর এই রণকৌশলকেই কার্যত সমর্থন জোগাচ্ছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ।

কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুভেন্দুর পাশে? দলের শীর্ষসূত্রের দাবি, কেবলমাত্র নিজস্ব সংগঠনের শক্তিতে রাজ্যে প্রভাব বিস্তার করা সময়সাপেক্ষ। রাজনৈতিক বিস্তার ও প্রভাব দ্রুত বাড়াতে হলে অন্য দল থেকে দক্ষ নেতাদের স্বাগত জানানো প্রয়োজন। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি বড় অংশ মনে করছে, দরজা বন্ধ রাখলে জনমানসে ভুল বার্তা যেতে পারে যে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির অভাব রয়েছে। তাই দলবদলুদের জন্য পথ খোলা রাখতেই আগ্রহী তারা।

দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে শমীক বনাম শুভেন্দু: বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর থেকে শমীক ভট্টাচার্য বারবার দাবি করে এসেছেন যে, তৃণমূল থেকে কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। কখনও কলকাতায়, কখনও দিল্লিতে—তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক এবং অতি সম্প্রতি তৃণমূলের প্রাক্তন তিন রাজ্যসভার সাংসদ (সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক)-এর বিজেপিতে যোগদান রাজ্য নেতৃত্বের দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। এরপর বিজেপি তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থীও ঘোষণা করায় শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের ফারাক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এখন সিদ্ধান্ত কার হাতে? তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি করা বা তাতে মদত দেওয়ার দায়ভার থেকে দলকে মুক্ত রাখতে চেয়েও ব্যর্থ হচ্ছে রাজ্য নেতৃত্ব। তবে আপাতত এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্য বিজেপিকে সরাসরি কোনো লিখিত বা মৌখিক নির্দেশ দিচ্ছে না। আপাতত দলবদল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার রাজ্য নেতৃত্বের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই নীরব সমর্থন শুভেন্দু অধিকারীর হাতকে আরও শক্ত করল। এখন দেখার, শমীক ভট্টাচার্য তাঁর ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে আসেন, নাকি দলের অন্দরে এই ‘মতপার্থক্য’ আগামী দিনে নতুন কোনো সংকটের জন্ম দেয়।